বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া একটি নতুন নিয়মের প্রয়োগ দেখা গেল তুরস্ক ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই নিয়মের কারণে লাল কার্ড দেখেছেন প্যারাগুয়ের অধিনায়ক মিগেল আলমিরন।
ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।
খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালারসা। দ্রুত গোল খেয়ে চাপে পড়ে যায় তুরস্ক।
গোল শোধে মরিয়া তুর্কিরা প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ চালায়। বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন মার্ট মুলদুর। কিন্তু তার হেড প্রথমে ক্রসবারে এবং পরে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় তুরস্ককে।
কিন্তু অতিরিক্ত সময় চলাকালে প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড আদামো পিত্তার পায়ে পা লাগিয়ে দেন তুরস্কের মিডফিল্ডার ইসমাইল ইউকসেক। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পিত্তা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এগিয়ে এলে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেই প্যারাগুয়ের অধিনায়ক মিগেল আলমিরনকে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রেফারির নজরে আনেন তুরস্কের খেলোয়াড়রা। পরে ভিএআরে ঘটনাটি পর্যালোচনা করে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে কিছু বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য মূলত প্রতিরোধ তৈরি করা। কোনো খেলোয়াড় যদি এমন কিছু বলেন যা প্রকাশ্যে বললে সমস্যা হতো, তখনই তিনি মুখ ঢাকার প্রয়োজন অনুভব করেন। ইনফান্তিনো তাই প্রকাশ্যেই বলেন, “লুকানোর কিছু না থাকলে মুখ ঢাকারও প্রয়োজন নেই।”
তবে মুখ ঢুকলেই যে লাল কার্ড দেখানো হবে, বিষয়টি তেমন নয়। ফুটবলের আইন প্রণয়ন সংস্থা আইএফএবি বলেছে, প্রতিটি পরিস্থিতি রেফারির বিবেচনায় মূল্যায়িত হবে। রেফারি যদি মনে করেন আচরণটি সন্দেহজনক, উসকানিমূলক বা খেলার স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা তার হাতে থাকবে।
সেই নিয়ম প্রয়োগ করেই আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান এল সালভাদরের রেফারি ইভান আরসিদেস বার্তন সিসনেরোস।



