Saturday, June 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৬৪ সেকেন্ডে গোল, ১০ জনের দল নিয়েও জিতলো প্যারাগুয়ে

একের পর এক সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারায় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তুরস্ককে

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

সান ফ্রান্সিসকোর বে অ্যারেনায় তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। 

ম্যাচজুরে বেশিরভাগ সময় বল ঘোরাফেরা করল প্যারাগুয়ের গোলপোস্টের পাশেপাশে। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোল মিসের মহড়ায় আর সমতা ফেরাতে পারল না তুরস্ক। ম্যাচের ৬৪ সেকেন্ডে মাতিয়াস গোলারজার ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা গোলটিই গড়ে দিল ম্যাচের ব্যবধান। ১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলো তুরস্কের।

এই গোলটি ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সেলসো আয়ালার ৫২ সেকেন্ডে করা গোলের পর বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দলের দ্রুততম গোল।

গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তুরস্ক। বলের দখল ৮২% পর্যন্ত পৌঁছে যায়। হাকান চালহানগলু, আরদা গুলের, কেনান ইলদিজ, মুলদুররা বারবার প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগে আক্রমণ চালান। কিন্তু গোলের দেখা পাননি।

১৩ মিনিটে আকতুরকোগলুর কাটব্যাক থেকে আরদা গুলেরের দুর্দান্ত সুযোগ আসে, কিন্তু তার শট অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ৩৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় তুরস্ক। চালহানগলুর ফ্রি-কিক থেকে মুলদুরের হেড প্রথমে ক্রসবারে, পরে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন কোনোভাবেই তুরস্কের পক্ষে ছিল না।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। প্যারাগুয়ের তারকা মিগেল আলমিরন মুলদুরকে কিছু বলার সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন। নতুন ফিফা নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে মুখ ঢেকে কথা বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান আলমিরনকে। ১০ জনের দলে পরিণত হয় প্যারাগুয়ে। তখন মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্ক সহজেই ম্যাচে ফিরবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ খেললেও গোল করতে পারেনি তুরস্ক। ৪৮ মিনিটে কেনান ইলদিজের শট সাইড নেটে লাগে। ৫৮ মিনিটে চ্যালহানওলু ছয় গজ দূর থেকে বল বারপোস্টের ওপর দিয়ে পাঠান।

৬৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় দেনিজ গুলের হেড সরাসরি গোলরক্ষক গিলের হাতে জমা পড়ে। ৭৪ মিনিটে আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার শট দুর্দান্তভাবে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গিল। এরপর ৭৮ মিনিটে মুলদুরের ফাঁকা হেড পোস্টের বাইরে চলে যায়। 

প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিল ছিলেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক। ৮৯ মিনিটে ইউনুস উজুনের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। ফিরতি বলগুলোও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ মুহূর্তে ৯৭ মিনিটে আরদা গুলেরের ক্রস থেকে দেমিরালের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে তুরস্কের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।

ম্যাচজুড়ে তুরস্ক প্রায় একতরফা আধিপত্য দেখিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের সামনে চরম ব্যর্থতার মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

অন্যদিকে প্যারাগুয়ে মাত্র কয়েকটি সুযোগ পেয়েও শুরুতেই গোল করে সেটি ধরে রেখেছে অসাধারণ রক্ষণে। ১০ জনের দল নিয়েও তারা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে, তা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই জয়ে প্যারাগুয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো।

   

About

Popular Links

x