বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরুর অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘ হলেও মাঠে নেমে সেই অপেক্ষার সবটুকু উসুল করে দিয়েছে মেক্সিকো। নিজেদের সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণের ছন্দে ছিল স্বাগতিক দল। প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা, যার পুরস্কার আসে প্রথমার্ধেই।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে রোবের্তো আলভারাদোর দারুণ থ্রু পাস থেকে বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন জুলিয়ান কুইনোনেস। মাত্র নয় মিনিট পর আবারও আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি। কুইনোনেসের বাড়ানো বল থেকে শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেস।
বিরতির পর বলের নিয়ন্ত্রণে কিছুটা এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর। পুরো ম্যাচে তারা ৫৭ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি। মেক্সিকো ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় এবং সেখান থেকেই আসে দুটি গোল। অন্যদিকে ইকুয়েডরের ৮টি শটের মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর কয়েকটি চেষ্টা চালায় ইকুয়েডর। গনসালো প্লাতার একটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। তবে মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণ তাদের আর কোনো সুযোগ দেয়নি।
যোগ করা সময়ে আরও বিপাকে পড়ে ইকুয়েডর। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। চলতি বিশ্বকাপে একই কারণে লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের হতাশা অনেকটাই পেছনে ফেলেছে মেক্সিকো। টানা চার ম্যাচে চারটি জয় ও চারটি ক্লিনশিট নিয়ে তারা শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদও পেল দলটি।
আগামী রোববার শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেই ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে আজতেকা স্টেডিয়ামেই।



