বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও। তবে দুই দফা বৃষ্টির পর শেষ হাসি ফুটেছে টাইগারদের মুখেই। আইরিশদের ৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
বুধবার (২৯ মার্চ) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। তবে টসের কিছুক্ষণ পরই শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। প্রায় আধা ঘণ্টা বৃষ্টির পর রোদের দেখা মিলেছিল। মাঠ শুকানোর পর বিকেল সোয়া ৩টায় খেলা শুরুর ঘোষণাও আসে। কিন্তু সেই ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে না হতে আবার শুরু হয় বৃষ্টি।
প্রথমে ১৯ ওভারের ম্যাচ আয়োজনের কথা বলা হলেও দ্বিতীয় দফা বৃষ্টির পর ম্যাচ নেমে আসে ১৭ ওভারে। ফলে পাওয়ার প্লে কমে দাঁড়ায় ৫ ওভারে। দুজন বোলার সর্বোচ্চ ৪ ওভার বল করতে পারবেন। ব্যাটিংয়ে নেমেই তাণ্ডব শুরু করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও রনি তালুকদার। তাদের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলেই দলের স্কোর পঞ্চাশ ছাড়ায়, যা টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম।
পাঁচ ওভারের পাওয়ার প্লেতেই ৭৩ রান যোগ হয়েছে বাংলাদেশের। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে টি-টোয়েন্টিতে দলের হয়ে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন লিটন। লিটন-রনির বিস্ফোরণে অষ্টম ওভারে দলের স্কোর ১০০ ছাড়ায়। সেই সঙ্গে তারা ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। দলীয় ১২৪ রানে রনির বিদায়ে এ জুটি ভাঙে। বেন হোইয়াটের বলে মার্ক অ্যাডায়ারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এ ওপেনার। আউট হওয়ার আগে ৩টি চার ও ২টি ছয়ে ২৩ বলে ৪৪ রান করেন রনি।
ইনিংসের ১২তম ওভারে একই বোলারের বলে বাজে শটে বিদায় নেন আরেক ওপেনার লিটন দাস। সাজঘরে ফেরার আগে ৪১ বলে ১০ চার ও তিন ছয়ে ৮৩ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটার। তবে শেষদিকে সাকিব-তাওহীদ জুটির ৬১ রানের ওপর ভর করে ২০০ ছাড়ায় টাইগারদের ইনিংস। শেষদিকে তাওহীদ দ্রুত রান তোলার তাড়ায় ২৪ রানে আউট হয়েছেন। তবে সাকিব অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
জয়ের জন্য ২০৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে লিটনের হাতে গ্লাভসবন্দি হন অধিনায়ক পল স্টার্লিং। বাংলাদেশের বোলিংয়ে এরপরের গল্পটা শুধুই সাকিব আল হাসানের। বাঁ হাতের ঘুর্ণিতে একে একে আয়ারল্যান্ডের পাঁচটি উইকেট শিকার করেন এ অলরাউন্ডার।
দ্বিতীয় ওভারে ৫ বলে ৬ রান করা লরকান টাকারকে স্কয়ার লেগে রনি তালুকদারের সহজ ক্যাচ বানান সাকিব। নিজের দ্বিতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন টাইগার অধিনায়ক। প্রথম বলে রস অ্যাডায়ারকে ৬ রানে বোল্ড করেন সাকিব। ওই ওভারের শেষ বলে ৬ রান করা গ্যারেথ ডিলানিকেও লিটনের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরের পথ দেখান তিনি।
নিজের পরের ওভারের তৃতীয় বলে ২ রান করা জর্জ ডকরেলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব। এর মাধ্যমে টিম সাউদিকে (১৩৪) পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়ে যান ৩৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। একই ওভারে হ্যারি টেক্টরকে ২২ রানে বোল্ড করে পঞ্চম উইকেট তুলে নেন সাকিব।
সাকিব আল হাসানের ঘুর্ণি জাদুতে ষষ্ঠ ওভারে ৪৩ রানে ৬ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তবে পরের চার ওভারে আর কোনো উইকেট হারায়নি সফরকারীরা। মার্ক অ্যাডায়ারকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কার্টিস ক্যাম্ফার। ১১তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন ১১ বলে ৬ রান করা অ্যাডায়ার। ১৩তম ওভারে আক্রমণে ফিরে আবারো উইকেটের দেখা পান তাসকিন। ডানহাতি পেসারের ইয়র্কারে এলবিডব্লিউর শিকার হন ফিওন হান্ড। রিভিউ নিলেও তা কোনো কাজে আসেনি।
আয়ারল্যান্ডের ক্যাম্ফার ২৯ বলে ফিফটি তুলে নিলেও তা শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। ১৫তম ওভারে তাসকিনের বলে বোল্ড হন তিনি। আউট হওয়ার আগে তিনটি চার এবং তিন ছয়ে ৩০ বলে ৫০ রান করেন এ আইরিশ ব্যাটার। পরের ৫ ওভারে আর উইকেট না হারালেও ১৭ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৫ রানে আটকে যায় সফরকারীরা।



