বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচটি তাই টাইগারদের কাছে সিরিজ জয়ের উপলক্ষ। রবিবার (১৪ মে) ইংল্যান্ডের এসেক্সের চেমসফোর্ডে সেই ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছে সফরকারীরা।
সিরিজের আগের দুই ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালের সঙ্গী হিসেবে লিটন দাস থাকলেও এবার বাংলাদেশ অধিনায়কের সঙ্গে অপর প্রান্তে ছিলেন অভিষিক্ত রনি তালুকদার। তবে ওয়ানডে অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি তিনি। চতুর্থ ওভারে মার্ক অ্যাডায়ারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১৪ বলে মাত্র চার রান করা রনি।
রনির ফেরার আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন তামিম। জশ লিটলের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু দ্বিতীয় স্লিপে থাকা আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবির্নি সেই ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশ অধিনায়ক তখন মাত্র ১ রানে ব্যাট করছেন।
রনির বিদায়ের পর উইকেটে আসেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবং জয়ের নায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল হতে শুরু করে। কিন্তু ১১তম ওভারে উইল ইয়াংয়ের বলে বালবির্নির হাতে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত। সাজঘরে ফেরার আগে ৩২ বলে সাতটি চারে ৩৫ রান করেন শান্ত।
তামিম-শান্তর ৪৯ রানের জুটি ভেঙে গেলেও বাংলাদেশের রানের গতি ভালোই এগোচ্ছিল। ২০১৫ সালের পর ওয়ানডেতে চার নম্বরে নামা লিটনকে সঙ্গে নিয়ে দলের সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন তামিম। তৃতীয় উইকেটে ৭৬ বলে তামিম-লিটন জুটি যোগ করে ৭০ রান। কিন্তু ২৪তম ওভারে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে তুলে মারতে গিয়ে অ্যাডায়ারের হাতে লিটন ধরা পড়লে এ জুটি ভেঙে যায়। আউট হওয়ার আগে এ ডানহাতি ব্যাটার ৩৯ বলে তিন চার ও এক ছয়ে ৩৫ রান করেন।
সেঞ্চুরি করায় শান্ত আগের ম্যাচের নায়ক হলেও ঝড়ো গতির ফিফটির কারণে তৌহিদ হৃদয়ও জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন। সিরিজের শেষ ম্যাচেও উইকেটে এসে সেই ঝড়েরই আভাস দিচ্ছিলেন এ ব্যাটার। তবে জর্জ ডকরেলের করা ২৮তম ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন হৃদয়। তার আগে ১৬ বলে এক চারে ১৩ রান করেন তিনি।
এদিকে, ২৬তম ওভারে ফিফটি করেন তামিম ইকবাল। ২০২২ সালের আগস্টের পর ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো হাফ সেঞ্চুরি করলেন বাঁহাতি ওপেনার। পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে ১০ ইনিংসের মধ্যে এটি তামিমের প্রথম অর্ধশতক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ চার উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৬তম ফিফটি তুলে নেওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল ছয়টি বাউন্ডারিতে ৬৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যদিকে, উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম ৬ রানে ব্যাট করছেন।



