ক্রিকেটকে বলা হয় “গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা”। তবে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাস দেখলে হয়ত অনেকেই কথাটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। ২০০৩ সালের আসরে কেনিয়ার সেমিফাইনাল উত্থান বাদে ক্রিকেট বিশ্বকাপে কোনো ছোট দলের বড় স্বপ্নযাত্রা নেই বললেই চলে।
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রায় প্রতি আসরেই কম-বেশি অঘটন ঘটে থাকে। তবে ২০০৭ সালের মতো অঘটনের নজির সম্ভবত আর কোনো আসরেই দেখা যায়নি। ওই আসরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দর্শকরা দেখেছিল উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট শক্তির পরাজয়। তাই ১৭ মার্চ দিনটিকে চাইলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে “অঘটন দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে যেতে পারে। ২০০৭ সালে দিনটিতে বিশ্লেষকদের সব অনুমানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সারা বিশ্বকে ক্রিকেট উপহার দিয়েছিল বিশাল চমক।
এক প্রান্তে প্রবল পরাক্রমশালী ভারত হেরেছিল তৎকালীন উঠতি শক্তি বাংলাদেশের কাছে। অন্যদিকে, নবাগত আয়ারল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান। শুধু তাই না, ম্যাচ দুটির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মৃত্যুর কালো ছায়াও। চলুন তাহলে স্মৃতির পাতা থেকে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক দিন থেকে ঢুঁ মেরে আসি-
ভারত-বাংলাদেশ
২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে “বি” গ্রুপে দেখা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের। আগের আসরে রানার্সআপ হওয়া ভারতীয়রা সেবারও ছিল শিরোপাপ্রত্যাশী হট ফেবারিট। শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে বরাবরের মতো ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল ক্রিকেটবিশ্বের সেরা। তখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র একটি।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতীয়রাই ছিল নিরঙ্কুশ ফেবারিট। কিন্তু আকস্মিক এক ঘটনার (পড়ুন দুর্ঘটনার) সংবাদ পুরো বাংলাদেশ দলের মানসিকতাই পাল্টে দেয়। ম্যাচের আগের দিন অর্থাৎ ১৬ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মারজারুল ইসলাম রানা।
বাংলাদেশ দল তখন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। চেহারায় অদ্ভুত সারল্য আর ঠোঁটের মায়াবী হাসিতে অল্প সময়েই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম মাতিয়ে রাখার কারিগর হয়ে উঠেছিলেন এ বাহাঁতি স্পিনার। ম্যাচের আগের দিন রাতে সেই রানার মৃত্যু সংবাদে গোটা দলের মাঝেই হতাশার গুমোট মেঘ নেমে এসেছিল। তবে সবাই সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে প্রতিজ্ঞা করেন- রানার জন্য হলেও ম্যাচটা জিততেই হবে।

শেষ পর্যন্ত হয়েছিলও তাই। ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে “বি” গ্রুপের সেই টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। রানাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে ভারতীয়দের ওপর শুরুতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে টাইগাররা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিধ্বংসী ওপেনার বীরেন্দর শেবাগকে বোল্ড করেন বাংলাদেশ দলে রানারই সবচেয়ে কাছের বন্ধু মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলীয় ২১ রানে রবিন উথাপ্পাকেও সাজঘরের পথ দেখান এ পেসার।
মাশরাফি যে উড়ন্ত শুরু এনে দিয়েছিলেন, সেটিকেই ধরে রাখেন মোহাম্মদ রফিক ও আব্দুর রাজ্জাক। দুই বাহাঁতি স্পিনারের ঘূর্ণি বিষে একে একে টেন্ডুলকার (৭) ও দ্রাবিড়কে (১৪) হারিয়ে ভারতের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে যায়। ইনিংসের অর্ধেক না পেরোতে মাত্র ৭২ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ভারতীয়রা তখন চাপের মুখে। সেই অবস্থা থেকে ভারতকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন গাঙ্গুলী ও যুবরাজ। পঞ্চম উইকেটে দুই বাঁহাতি মিলে যোগ করেন ৮৫ রান।

৪৩তম ওভারে যুবরাজ সিংকে (৪৭) ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন রাজ্জাক। রফিকের করা পরের ওভারে গাঙ্গুলী (৬৬) আর ধোনিও (০) তাকে অনুসরণ করেন। এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারত। বাংলাদেশের বোলিং তোপে ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় ভারতীয়রা। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ এতটাই নতজানু ছিল যে মাত্র পাঁচজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। বাকি ছয়জনের তিনজন আউট হয়েছিলেন কোনো রান না করেই। ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মাশরাফি। এছাড়া, তিনটি করে উইকেট নেন দুই স্পিনার রফিক ও রাজ্জাক।

জয়ের জন্য ১৯২ রান পাহাড়সম কোনো লক্ষ্য না। কিন্তু পোর্ট অব স্পেনের ধীরগতির পিচে ওই রান তাড়া করাও খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। পঞ্চম ওভারে ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে যেন সেটিরই আভাস দিয়েছিলেন জহির খান। কিন্তু আরেক ওপেনার তামিম ইকবালের কাছে ভারতীয় বোলাররা পাত্তাও পাচ্ছিলেন না। সাতটি বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ঝড়োগতিতে অর্ধশতক তুলে নেন এ বাহাঁতি ব্যাটার। দলীয় ৬৯ রানে মুনাফ প্যাটেলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে অবশেষে থামে তামিম শো। প্যাভিলিয়নে যাওয়ার আগে ৫৩ বলে ৫১ রান করেছিলেন তিনি।
তামিমের বিদায়ের ১৬ বল পর তাকে অনুসরণ করেন সেই সময়কার বাংলাদেশ দলের হার্ড হিটার আফতাব আহমেদ। ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগাররা তখন খানিকটা চাপে। কিন্তু মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানের ব্যাটে সেই চাপ কর্পূরের মতো উবে যায়। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ৮৪ রান। ৩৯তম ওভারে শেবাগের বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন পাঁচটি চার ও এক ছয়ে ৮৬ বলে ৫৩ রান করা সাকিব। দলীয় ১৭৫ রানে শেবাগের বলে একইভাবে বিদায় নেন টাইগার অধিনায়ক হাবিবুল বাশারও (১)।

তবে সেটা শুধু বাংলাদেশের জয়কেই বিলম্বিত করেছে। মোহাম্মদ আশরাফুলকে (৮*) সঙ্গে নিয়েই ৯ বল হাতে রেখেই বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান সেদিনের আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক। তিন বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ১০৭ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। রানার বিদেহী আত্মাকে ৫ উইকেটের অবিস্মরণীয় এক জয় উপহার দেয় লাল-সবুজের দল। ম্যাচসেরা হয়েছিলেন রানারই বন্ধু মাশরাফি। চাইলে এই ম্যাচকে বর্তমান বাংলাদেশ দলের ভিত্তির প্রতীকী শুরু হিসেবেও দেখা যেতে পারে। ভারতের বিপক্ষে ফিফটি করা সেদিনের সেই তিন তরুণই (তামিম, সাকিব ও মুশফিক) যে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অসংখ্য কীর্তি গড়েছেন।

বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিত সেই হারের পর ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্ন খাদের কিনারায় চলে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য পুঁচকে বারমুডাকে ২৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইটের আশা জাগিয়ে তোলে ভারতীয়রা। তবে শেষ ম্যাচে নিজেরা শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৯ রানে পরাজিত হওয়ায় এবং বাংলাদেশ বারমুডাকে ৭ উইকেটে হারানোয় গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় ভারত। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল নিয়েও বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ে সর্বমহলে সমালোচনার মুখে পড়ে ভারতীয়রা।

পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড
একই দিনে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেন থেকে ১,৮৩৩ কিলোমিটার দূরে জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে মু্খোমুখি হয় পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। সেই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে গিয়েছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে, ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাই করে আয়ারল্যান্ড। তাই টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পাকিস্তানের সামনে জয় ছাড়া বিকল্প রাস্তা ছিল না।
বিশ্বকাপে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে “ডি” গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচ থেকে আইরিশরা পয়েন্ট অর্জনে সমর্থ হলেও কাগজে-কলমে সেই ম্যাচে ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরাই ছিল ফেবারিট। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই সেই ফেবারিট তত্ত্ব যেন ভোজবাজির মতো পাল্টে যায়।
জ্যামাইকার মেঘলা আবহাওয়ায় বোলিংয়ে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক ট্রেন্ট জনস্টন। নিজেদের দলনেতার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চেপে ধরে আইরিশ বোলাররা। তাদের বোলিং তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ওপেনার ইমরান নাজির (২৪) আর উইকেটরক্ষক কামরান আকমল (২৭) চেষ্টা করলেও বাকিদের যোগ্য সাহচর্যের অভাবে তাদের লড়াই বিফলে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪৫.৪ ওভাবে ১৩২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ সেদিন এতটাই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল যে দলের মাত্র চারজন ব্যাটারের স্কোর দুই অঙ্কের ঘর পেরিয়েছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিল মিস্টার এক্সট্রার (২৯)। অর্থাৎ পাকিস্তানের ইনিংসের সবচেয়ে বেশি রান এসেছিল অতিরিক্ত খাত থেকে। আইরিশ বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন বয়েড রানকিন। এছাড়া, আন্দ্রে বোথা এবং কাইল ম্যাককালান নেন দুটি করে উইকেট। আয়ারল্যান্ডের বোলিং সেদিন কেমন দুর্দান্ত ছিল তা স্পষ্ট হবে আরো একটি তথ্যে- দলের পক্ষে সেদিন যারাই বল নিয়ে হাত ঘুরিয়েছিলেন, তারা প্রত্যেকেই উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন।
জয়ের জন্য ১৩২ রান খুব আহামরি কোনো পুঁজি না। কিন্তু হাল ছেড়ে দিতে নারাজ পাকিস্তানের বোলারদের কারণে ১৩৩ রানের ছোট লক্ষ্যও আয়ারল্যান্ডের জন্য পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়। ১৫ রানের মধ্যেই মোহাম্মদ সামির বলে ওপেনার জেরেমি ব্রে আর এউইন মরগ্যানকে (পরবর্তীতে ইংলিশ অধিনায়ক) হারায় আইরিশরা। এরপর আরেক ওপেনার উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের সঙ্গে দলের ইনিংসের হাল ধরেন চারে নামা নিয়াল ও ব্রায়ান। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৪৭ রানের জুটি। তবে ২১তম ওভারে পোর্টারফিল্ডের বিদায়ে সেই জুটি ভেঙে যায়। ঠিক দুই ওভার পর কোনো রান করা ছাড়াই বোথা সাজঘরে ফিরলে খানিকটা চাপে পড়ে আইরিশরা।

এর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের ২৮তম ওভারে জ্যামাইকার আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে এগিয়ে থাকায় আইরিশরা তখন জয়ের প্রহর গুণতে ব্যস্ত। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে ঘণ্টাখানেক পর আবার খেলা শুরু হয়। বৃষ্টি আইনে আয়ারল্যান্ডের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৪৭ ওভারে ১২৮ রান। পঞ্চম উইকেটে কেভিন ও ব্রায়ানকে সঙ্গে নিয়ে ৩৮ রান তুলে দলকে জয়ের দিকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছিলেন নিয়াল। তবে শোয়েব মালিকের করা ৩৪তম ওভারের শেষ বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন ছয় বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৭২ রান করা নিয়াল। রাও ইফতিখার আনজুমের করা পরের ওভারের শেষ দুই বলে আন্দ্রে হোয়াইট ও ম্যাককালান বিদায় নিলে পাকিস্তান শিবিরে জয়ের আশা জেগে ওঠে। কিন্তু কেভিন আর অধিনায়ক জনস্টনের ব্যাটে ভর করে অনায়াসেই তিন উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বিশ্বকাপে অভিষিক্ত দেশটি।

টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকেই সুপার এইটে পা রাখে আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে, আইরিশদের কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে এসব ক্রিকেটীয় সমীকরণ ফিকে হয়ে যায় পরবর্তীর এক আকস্মিক সংবাদে। আয়ারল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের পরাজয়ের পরদিনই হোটেলে দলের কোচ বব উলমারের মরদেহ পাওয়া যায়। দক্ষিণ আফ্রিকান এ প্রবীণ কোচের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু- তা নিয়ে বেশ ক্রিকেটাঙ্গন বেশ সরগরম হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তদন্তের পর বব উলমারের পরলোকে পাড়ি জমানোকে স্বাভাবিক মৃত্যু উল্লেখ করেই মামলা শেষ করে জ্যামাইকার পুলিশ।

পুনশ্চ
বড় সম্ভাবনার হাতছানি নিয়েও ২০০৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ভারত ও পাকিস্তানকে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই। গ্রুপপর্বেই উপমহাদেশের বড় দুই ক্রিকেট শক্তির বিদায় ঘণ্টা বেজে যাওয়ায় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের সেই আসর অনেকটাই বর্ণহীন হয়ে যায়। এমনকি ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলকেও (আইসিসি) বড় অঙ্কের লভ্যাংশ খোয়াতে হয়। তবে সবকিছুর পরও একইদিনে ভারত-পাকিস্তানের মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর হারে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ তারিখটি ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব পেয়ে যায়।



