Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার কি ছুটবে তিনের গেরো?

  • দুর্দান্তভাবে আফগানদের পরাস্ত করে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ
  • তবে আগে কোনো বিশ্বকাপে তিনটির বেশি জয় পায়নি টাইগাররা
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম

তিন- সাধারণ একটি সংখ্যা। গণিত শাস্ত্রের প্রথম মৌলিক সংখ্যা। আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাধারণ এ সংখ্যার বৃত্তে আটকে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে তিনের চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে টাইগাররা। এই বিশ্বকাপে টাইগাররা কি সেই বৃত্ত থেকে বেরোতে পারবে, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের রয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসরে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে দারুণ। শনিবার (৭ অক্টোবর) ধর্মশালায় আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার ওডিআই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। তবে উঠেছে সেই প্রশ্ন- এবার কি তিনের চক্র/গেরো ভাঙবে?

ওয়ানডে সংস্করণে বাংলাদেশ অনেকদিন ধরেই সমীহ জাগানিয়া দল। টেস্ট খেলুড়ে পরাশক্তিদের বিপক্ষে একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের দিনে বড় দলগুলোকে হারিয়েছে। শুধু তাই না, ওয়ানডে বিশ্বকাপে একবার করে সুপার এইট এবং কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বশেষ চার আসরের কোনোটিতেই তিনটির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি টাইগাররা।

ইতিহাস বিচার করলে ওয়ানডেতেই বাংলাদেশের সাফল্য বেশি।

পেছনের কথা

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খ্যাত আইসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেই সঙ্গে শুরু হয় টাইগারদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার মিশন। চার বছর পর পর আইসিসির সব সহযোগী সদস্যদের নিয়ে তখন আইসিসি ট্রফি অনুষ্ঠিত হতো। এ টুর্নামেন্টের শিরোপাজয়ী দলটি সুযোগ পেতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ মিলত। শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলো এ প্রতিযোগিতা জেতার মাধ্যমেই বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছিল।

১৯৯২ বিশ্বকাপের মাধ্যমে ক্রিকেটের পরিধি বাড়তে থাকে। ফলে বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে খেলাটির গুরুত্ব বাড়ে।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকেট প্রাপ্তির দুয়ারে

আইসিসি ট্রফির আগের আসরগুলো থেকে কেবলমাত্র চ্যাম্পিয়নরাই বিশ্বকাপের টিকেট পেতো। তবে ১৯৯৪ সালে প্রতিযোগিতার নিয়মে পরিবর্তন আসে। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি জানায়, সেবার টুর্নামেন্টের সেরা তিন দল উপমহাদেশে পরবর্তী বিশ্বকাপে (১৯৯৬) বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে ততদিনে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে গিয়েছে বলে তখন তারাও নেই এখন টুর্নামেন্টে। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নে বিভোর হয় বাংলাদেশ। যদিও দ্বিতীয় রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।

১৯৯৪ সালের আইসিসি ট্রফির ব্যর্থতার পর নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেটের হর্তাকর্তারা। সদ্য অবসরের পর ১৯৯৬ সালে জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। পরবর্তীতে কোচ হিসেবে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার গর্ডন গ্রিনিজ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটেও পেশাদারিত্ব শুরু হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে বিভিন্ন নাটকীয় বিভিন্ন ঘটনার পর অবশেষে আইসিসি ট্রফির শিরোপা জিততে সমর্থ হয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটেও পালাবদলের দিগন্ত উন্মোচিত হয়। আইসিসি ট্রফি জয়ের পর গর্ডন গ্রিনিজকে বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়ার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

১৯৯৯: প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ

যুক্তরাজ্যে আয়োজিত ১৯৯৯ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেবার প্রথম রাউন্ডে “বি” গ্রুপে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী ছিল অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজিত হয় টাইগাররা। তবে তৃতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে উপমহাদেশীয় পরাশক্তি পাকিস্তানকে ৬২ রানে পরাজিত করে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করে রাখে বাংলাদেশ। অভিষিক্ত দেশ হিসেবে সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ২০০০ সালে তাদের টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তিতেও ভূমিকা রেখেছিল।

২০০৩: বিস্মরণযোগ্য সেই বিশ্বকাপ

২০০৩ সালে আয়োজিত হয় একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপ। আগের আসরের সুখস্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ কিছু করার লক্ষ্যেই আফ্রিকা মহাদেশে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপে গিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু তা তো হয়ইনি, উল্টো নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অধ্যায়টাই সম্ভবত সেবার পার করছিল টাইগাররা। পুলপর্বে “বি” গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটাই হয় কানাডার কাছে ৬০ রানের অপ্রত্যাশিত হার দিয়ে। এরপর একে একে শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ডের কাছেও শোচনীয় হারের মুখ দেখে লাল-সবুজের দল। মাঝে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। শেষ ম্যাচে কেনিয়ার কাছে ৩২ রানের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের সেই বিশ্বকাপ শেষ হয়।

২০০৭: বড় দল হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ

ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত ২০০৭ বিশ্বকাপে আরও একবার দারুণ কিছুর স্বপ্নে বুক বাঁধে বাংলাদেশ। এবার অবশ্য আর বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ হতে হয়নি। গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আগের আসরের রানার্সআপ ভারতকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দেয় টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হলেও শেষ ম্যাচে বারমুডাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো গ্রুপপর্বের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। সুপার এইটেও তৎকালীন সময়ে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারায় টাইগাররা। যদিও স্মরণীয় সেই যাত্রায় কালিমার ছোপ লেগেছিল আয়ারল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিত এক পরাজয়ে। তবুও ২০০৭ বিশ্বকাপটা বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশকে নতুন জায়গা করার ভিত্তি গড়ে দেয়।

২০১১: আয়োজক হিসেবে সফল, স্বাগতিক হিসেবে ব্যর্থ

এক যুগ আগে উপমহাদেশের অপর দুই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ। বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। আয়োজকের ভুমিকায় সফল হলেও মাঠের খেলায় তেমন উজ্জ্বল ছিল না টাইগাররা। আগের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচকে ভারতকে পরাজিত করলেও এবার উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের কাছেই হেরে যায়। পরে অবশ্য আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে ঠিকই হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে যথাক্রমে ৫৮ ও ৭৮ রানের লজ্জায় ডুবেছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই ক্যারিবীয়দের সমান পয়েন্ট নিয়েও ঋণাত্মক রানরেটের কারণে টাইগাররা গ্রুপপর্বের বাধা ডিঙাতে ব্যর্থ হয়।

২০১৫: বিশ্বকাপে স্মরণকালের সর্বোচ্চ সাফল্য

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল একটি সময় পার করছিল। বিশ্বকাপের মাস চারেক আগে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারার পাশাপাশি নেতৃত্ব হারান তৎকালীন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। পরে সেই ধ্বংসস্তূপে টাইগারদের অধিনায়কত্ব নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপে যেন বাংলাদশ হয়ে ওঠে এক অন্য দল। আফগানিস্তানকে দাপুটেভাবে হারিয়ে শুরু করার পর অট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তবে শেষ আটে ভারতের বিপক্ষে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হয়ে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে। তবে টাইগারদের সাফল্য নিয়ে সেবার গর্বিতই ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

২০১৯: সম্ভাবনা নিয়েও হতাশা

তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে কাগজেকলমে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা দলটি নিয়েই যুক্তরাজ্যে আয়োজিত ২০১৯ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। এমনকি প্রথমবারের মতো টাইগারদের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা দেখছিলেন কেউ কেউ। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুরুটাও ভালোই হয়েছিল। পরে আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মাঝে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। কিন্তু দুর্বল ফিল্ডিং, নির্বিষ বোলিং, ওপেনার-পেসারদের ব্যর্থতা, উইকেট পড়ার ভুল এবং রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে আরও একবার হতাশাই সঙ্গী হয় টাইগারদের। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকের দুর্বল উইকেটকিপিংয়ে রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া, সাব্বির রহমান অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের আর তামিম ইকবাল ভারতের রোহিত শর্মার সহজ ক্যাচ না ফেললে (দুজনই পরে সেঞ্চুরি করেছিলেন) চিত্রটা ভিন্ন হলেও হতে পারত। সেমিফাইনালের স্বপ্ন চোখে নিয়েও দশ দলের রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের লিগপর্বের পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।

২০২৩: নতুন আসর, পুরোনো গেরো ভাঙার নতুন লক্ষ্য

গত আসরের মতো এবারের আসরটাও তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে গড়া একটি স্কোয়াড। টুর্নামেন্টের আগে কয়েক মাস ধরে দলের অধিনায়কত্ব, স্কোয়াড আর মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিষয় মিলিয়ে বেশ অস্থিতিশীল একটি সময় পার করেছে টাইগাররা। তবুও সম্ভাব্য সেরা স্কোয়াড নিয়েই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে গিয়েছে, এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত করার লোক খুব বেশি পাওয়া যাবে না। যদিও এ বিশ্বকাপের মাধ্যমেই ভারতের মাটিতে ১৭ বছর পর ওয়ানডে খেলছে বাংলাদেশ। তবুও নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতেও পারলে উপমহাদেশের চিরচেনা কন্ডিশনে টাইগারদের পক্ষে সেমিফাইনাল খেলা অসম্ভব না। কিন্তু সেটির আগে গত চার আসরে ধরে ঘিরে থাকা তিনের বৃত্তকে সবার আগে ভাঙতে হবে। 

ভারতে চলমান ২০২৩ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইতোমধ্যে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে সাকিব-মিরাজদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই দল চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১১ আর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংলিশদের হারিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। তবে ২০০৭ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে আবার ঠিকই জয় তুলে নিতে সমর্থ হয় ইংলিশরা। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে তিনবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। গত মার্চে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে থ্রি লায়ন্সদের কাছে পরাজিত হয়। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার দরুণ ইংলিশদের কাছে ৪ উইকেটে হেরে যায় টাইগাররা।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড বরাবরই বাংলাদেশের পরিচিত এক প্রতিপক্ষ। ২০১১ সালের আসরটি বাদ দিলে নিজেদের খেলা প্রতিটি বিশ্বকাপেই তাসমাস সাগরপাড়ের দেশটির বিপক্ষে মাঠে নেমেছে টাইগাররা। তবে একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বযজ্ঞে পাঁচবার কিউইদের মুখোমুখি হয়েও বাংলাদেশ কখনোই জয়ের স্বাদ পায়নি। যদিও সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তারা। বিশেষ করে উইকেটরক্ষক মুশফিক রহিম প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আফসোসের নাম। যদিও ২০১৯ বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক নয়। গত চার বছরে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে পাঁচবার কিউইদের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ তাদের বিপক্ষে জয়হীন। ২০২১ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ হারের পর এবারের বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ঘরের মাঠেও সিরিজ হেরেছে লাল-সবুজের দল।

আগামী ১৯ অক্টোবর পুনেতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদশ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বশেষ চার আসরেই টাইগারা প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতীয়দের পেয়েছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে দিলেও বাকি অর্থাৎ সর্বশেষ তিনবারই হারের মুখ দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। 

২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে চারবার ভারতের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে গত বছরের শেষদিকে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টাইগাররা ভারতকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল। গত মাসে এশিয়া কাপে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতেও ভারতকে ৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইতিবাচক হলেও ভারতের মাটিতে কখনো তাদের বিপক্ষে না খেলার ইতিহাসও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া ঘরের মাঠে ভারত কতটা অদম্য, সেটাও বোধকরি টাইগারদের অজানা থাকার কথা না।

তিন দিন পর দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস বেশ ভারসাম্যপূর্ণই বলা যায়। বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে কেউই একক আধিপত্য দেখাতে পারেনি। ২০০৩ আর ২০১১ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছিল টাইগাররা। তবে ২০০৭ আর ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের দাপুটেভাবে হারিয়ে হিসাব বরাবর করে দেয় লাল-সবুজের দল। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে এসেছিল বাংলাদেশ। ফলে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টাইগাররা ভালো কিছুর আশা করতেই পারে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকানদের সাম্প্রতিক ফর্ম বাংলাদেশের কপালে ভাঁজ ফেলতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবারের আসরে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। ওয়ানডে ক্রিকেটে এক যুগের বেশি সময় ধরে ডাচদের মুখোমুখি হয়নি টাইগাররা। তবে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে ২০১১ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে দাপটে সঙ্গেই জয়লাভ করেছিল বাংলাদেশ। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে এবারও তার অন্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আগামী ৩১ অক্টোবর নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একসময় নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হলেও এখন টুর্নামেন্ট ব্যতিত কালেভদ্রে পাকিস্তানের সঙ্গে দেখা হয় বাংলাদশের। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর গত চার বছরে ওয়ানডেতে একবারই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ, গত মাসে এশিয়া কাপে। সেই ম্যাচে অবশ্য পাকিস্তানিদের সঙ্গে টাইগাররা পেরে ওঠেনি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের মুখোমুখি সাক্ষাতে যদিও পাকিস্তান ও বাংলাদশের মধ্যে সমতা রয়েছে। ১৯৯৯ সালে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপেই পাকিস্তানকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল টাইগাররা। দুই দশক পর গত আসরে সেই হারের প্রতিশোধ নেয় পাকিস্তানিরা। যদিও পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দলই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মাটিতে খেলেনি বলে তারা একই বিন্দুতে রয়েছে।

বর্তমান ক্রিকেটীয় শক্তি বিবেচনা করলে শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদশ ভালোই এগিয়ে থাকবে। কিন্তু গত চার বছরে ওয়ানডেতে আটবার লঙ্কানদের মুখোমুখি হয়ে মাত্র দুবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা, বিপরীতে পরাজয়ের লজ্জা পেয়েছে বাকি ৬টিতেই। গত মাসে এশিয়া কাপেও দুবার শ্রীলঙ্কার কাছে হারের মুখ দেখেছে সাকিব-মিরাজরা। ঘরের মাটিতে সিরিজ জিতলেও হারতে হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে গিয়ে। ওয়ানডে বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস আশাব্যঞ্জক না। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে চারবার লঙ্কানদের মুখোমুখি হয়ে তিনবারই টাইগাররা শোচনীয়ভাবে হেরে মাঠ ছেড়েছে। বৃষ্টির কারণে ২০১৯ বিশ্বকাপে যদিও দুই দলের লড়াই মাঠে গড়ায়নি। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে দাপুটেভাবে হারানো বাংলাদেশ তাদের বিপক্ষে জয়ের জন্য আশাবাদী হতেই পারে।

এবারের বিশ্বকাপে রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের লিগপর্বে সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালের পর ওয়ানডেতে আর অস্ট্রেলিয়ানদের মুখোমুখি হয়নি টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে মুখোমুখি ইতিহাস দেখলে বাংলাদেশ হতাশই হতে পারে। একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে চারবার অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামলেও তিনবারই পরাজিত হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কেবলমাত্র ২০১৫ বিশ্বকাপেই দুই দলের লড়াই বৃষ্টিতে ভেসে যায়। তাছাড়া, বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়া অন্যরকম এক দল। তাই তাদের বিপক্ষে জিততে চাইলে সাকিব বাহিনিকে বিশেষ কিছুই করতে হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে তিনের বৃত্ত ভাঙার ভালো সুযোগই আছে এবার। শুধু প্রয়োজন নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়া। কে জানে, তিনের অপয়া চক্রকে পেরিয়ে গতবারের অধরা স্বপ্নটা এবার সত্যি হয়েই ধরা দিতে পারে বাংলাদেশের সামনে।

   

About

Popular Links

x