ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্বের প্রথম লেগে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৮৭ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ মূহূর্তে লাল-সবুজের দলকে উদ্ধার করেছেন সাদউদ্দিন। বদলি হিসেবে মাঠে নামা সাদের অন্তিম মুহূর্তের লক্ষ্যভেদেই ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে সমর্থ হয় হাভিয়ের কাবরেরার বিশেষ্যরা।
আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মণ ও শেখ মোরসালিনকে ছাড়াই বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) মালদ্বীপের রাজধানী মালে সিটিতে মালদ্বীপের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। নতুনদের সমন্বয়ে গড়া দল নিয়েই মালদ্বীপ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ড্র করে বাংলাদেশ। আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার ফিরতি লেগে জিতলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে নাম লেখাবে বাংলাদেশ।
আনিসুর রহমান জিকোর জায়গায় গোলবার সামলেছেন মিতুল মারমা। অন্যদিকে, তপু বর্মণ ও শেখ মোরসালিনের জায়গায় ৪-৪-২ ছকে সাজানো একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন শাকিল হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ১৮ মিনিটে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া আলী ফাসিরের শট পোস্টে প্রতিহত হয়ে ফিরে এলে তখনই এগিয়ে যেতে পারতো স্বাগতিকরা। ২৮ মিনিটে মোহাম্মদ নাইমের হেড দূরের পোস্ট দিয়ে গেছে।
তবে বাংলাদেশও প্রথমার্ধে কম সুযোগ পায়নি। ২৬ মিনিটে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া রাকিব হোসেনের বাঁ পায়ের জোরালো শট লক্ষভ্রষ্ট হয়। ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশের সোহেল রানার কর্নারে পোস্টের বাইরে দিয়ে হেড করে হতাশ করেন রাকিব। মিনিট পাঁচেক পর প্রতিপক্ষ ডি-বক্সে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েও লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন ফাহিম। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ শেষ হয়ে গোলশূন্যভাবেই।
মধ্যবিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলেরই গোল মিসের প্রতিযোগিতা চলেছে। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা কয়েকবার পরাস্ত হলেও কখনো অভিষিক্ত গোলরক্ষক মিতুল মারমা স্বাগতিকদের প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছেন তো আবার কখনো মালদ্বীপ ফরোয়ার্ডরা ঠিকমতো শটই নিতে পারেননি। অন্যদিকে, রাকিব ও ফাহিম উভয়ই অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। বিশেষ করে ফাহিম তো ফাঁকা পোস্টের সামনে বল পেয়েও জালে জড়াতে না পেরে পোস্ট উঁচিয়ে মেরেছেন।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের খেলোয়াড়রা অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া গোলশূন্য ড্রয়ের পথে ম্যাচ হাঁটছিল। কিন্তু শেষ দশ মিনিটে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৮৬ মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডের করা এক ক্রসে তারিক কাজী লাফিয়ে উঠে হেডের মাধ্যমে বল বিপদমুক্ত করতে গেলেও সেটি হাসান নাজিমের পায়ে পড়ে। মিতুল মারমা এগিয়ে এলেও মালদ্বীপের এ ফরোয়ার্ড ঠিকই বল জালে জড়িয়ে দেন।
পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণের সুযোগ পেয়েছিল মালদ্বীপ। এটিও আগের গোলের মতোই বাড়ানো বল ছিল। তবে এই যাত্রায় অভিজ্ঞ ফুটবলার আলী ফাসির একপাশে ফাঁকা পোস্টেও বল লক্ষ্যে রাখতে না পেরে গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন। নির্ধারিত সময় শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিলেন। এরপর চতুর্থ রেফারি ইনজুরি টাইম হিসেবে অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট সময় দেন।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই সাদের গোলে সমতা আনে বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত থেকে রাকিব হোসেনের বাড়ানো বলটিকে সাদ উদ্দিন প্লেসিংয়ে জালে জড়ান। বাংলাদেশকে মহাগুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট এনে দেওয়ার আনন্দে জার্সি খুলে উল্লাস করেন তিনি। যদিও এজন্য তাকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে। তবে তাতে সাদউদ্দিনের ভ্রুক্ষেপ ছিল না বৈকি।



