উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে দুটি গোলই করেছেন বদলি নামা স্ট্রাইকার হোসেলু মাতো। ম্যাচে মাদ্রিদ আক্রমণভাগের সামনে রীতিমতো দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ম্যানুয়েল ন্যয়ার। জার্মান গোলকিপার ঠেকিয়েছেন অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখে খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল তাদের কাছে। তবে কখন যেন এক পলক ঝিমিয়ে পড়েছিল মাদ্রিদের রক্ষণভাগ। ভুল করেনি বায়ার্ন। ৬৮ মিনিটে হ্যারিকেনের বাড়ানো লম্বা বল থেকে রুডিগারকে ড্রিবল করে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন বায়ার্ন উইঙ্গার আলফোনসো ডেভিস।
কিন্তু ওই যে, এক পুরোনো প্রবাদ! সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৯০ মিনিট অনেক দীর্ঘ সময়। তাইই হলো। ৬৯ মিনিটে টনি ক্রুস আর অরেলিয়েন চুয়ামেনিকে তুলে যথাক্রমে লুকা মদ্রিচ আর এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে নামান কার্লো অ্যানচেলত্তি। বায়ার্ন রক্ষণাত্মক খেলার লক্ষ্যে তুলে নেয় স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। এদিকে, আরও মরিয়া মাদ্রিদ বদলি নামায় ব্রাহিম ডিয়াজ আর হোসেলু মাতোকে।
৮৫ মিনিটে নেমে তিন মিনিটের মাথায় বাজিমাত হোসেলুর। ভিনিসিয়াসের শট ন্যয়ারের হাতে লেগে চলে যায় গোলমুখে ওঁৎ পেতে থাকা হোসেলুর পায়ে। জালে জড়াতে ভুল করেননি চলতি মৌসুমে ধারে মাদ্রিদে আসা এই স্ট্রাইকার। স্কোরলাইন তখন ১-১। তিন মিনিটের মাথায় আবার সেই হোসেলু। রুডিগারের বাড়ানো ক্রস থেকে ফের লক্ষ্যভেদ (২-১) করেন তিনি।
ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। প্রায় ১৪ মিনিট অতিরিক্ত খেলেও স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি কোনো দল। শেষ মুহূর্তে অবশ্য বায়ার্ন একটি সুযোগ পেয়েছিল, বলও জড়িয়েছিল রিয়ালের জালে। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
আগামী ১ জুন লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আরেক জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের। পিএসজিকে হারিয়ে তারা ইতোমধ্যে উঠে গেছে ফাইনালে।



