ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলো পিএসজি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ফরাসি ক্লাবটি শুধু ট্রফিই জেতেনি, গড়েছে ইতিহাসও। রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি দেখালো পিএসজি। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার ইউরোপসেরা হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
এই সাফল্যের মাধ্যমে পিএসজি প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ইউরোপীয় কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়েছে। শুধু তাই নয়, গত মৌসুমের পর থেকে এটি ক্লাবটির অষ্টম ট্রফি, যা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দুর্দান্ত আধিপত্যেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদ ও আয়াক্সের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই মৌসুমে নিজেদের ঘরোয়া লিগ শিরোপার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অনন্য কীর্তিও গড়েছে প্যারিসের ক্লাবটি।
পিএসজির এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর কোচ লুইস এনরিকেও উঠে এসেছেন বিশেষ এক উচ্চতায়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন তিন বা তার বেশি শিরোপাজয়ী কোচদের অভিজাত তালিকায়। এর আগে শুধু কার্লো আনচেলত্তি, বব পেইসলি, জিনেদিন জিদান ও পেপ গার্দিওলা এই কীর্তি গড়েছিলেন।
অন্যদিকে, শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্সেনালকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ট্রফি না জিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি এখনো তাদের দখলেই রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফাইনালে উঠেও সেই আক্ষেপ ঘোচাতে পারেনি লন্ডনের ক্লাবটি।
ফাইনালটি আরও একটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। ম্যাচে আর্সেনালের হয়ে গোল করে কাই হাভার্টজও গড়েছেন বিশেষ এক রেকর্ড। তিনি তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এর আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মারিও মানজুকিচ এই কীর্তি গড়েছিলেন।
তবে ম্যাচজুড়ে আর্সেনালের পারফরম্যান্সে ছিল রক্ষণাত্মক ছাপ। তাদের বল দখলের হার ছিল মাত্র ২৪.৭%, যা ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ইতিহাসে কোনো দলের সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে মিকেল আরতেতার অধীনে পুরো ম্যাচে ১১ জন খেলোয়াড় মাঠে থাকা অবস্থায় এটিই আর্সেনালের সর্বনিম্ন বল দখলের রেকর্ড।
সব মিলিয়ে, আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখলো পিএসজি। আর আর্সেনালের জন্য এই রাত হয়ে থাকবে আক্ষেপ, অপূর্ণতা ও হারানো স্বপ্নের আরেকটি অধ্যায়।



