ইউরোতে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল পেলেন কিলিয়ান এমবাপে, চলতি আসরে নিজেদের খেলোয়াড়দের পা থেকে প্রথম গোল পেল ফ্রান্স, তবুও “ডি” গ্রুপের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটিতে জয়বঞ্চিত হয়েছে ফ্রান্স।
ডর্টমুন্ডের জিগনাল ইডুনায় মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দুই গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপে ও পোল্যান্ডের হয়ে রবার্ট লেভানডফস্কি গোল দুটি করেন।
এই ড্রয়ে তিন ম্যাচে এক জয় ও দুটি ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অপরদিকে, মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছে পোল্যান্ড।
দিনের অন্য ম্যাচে নাটকীয় লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে অস্ট্রিয়া। ফলে ফেবারিট ফ্রান্স ও ডাচদের টপকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে তারা।
নাকে আঘাত লাগায় এক ম্যাচ বিশ্রামে থেকে এদিন বিশেষ মাস্ক পরে মাঠে নামেন এমবাপে। অন্যদিকে, ইনজুরিতে পড়া লেভানডফস্কিও ইউরোরর চলতি আসরে প্রথমবার পোল্যান্ডের শুরুর একাদশে ফেরেন।
এমবাপ্পে একাদশে ফেরায় ফ্রান্সের আক্রমণে কিছুটা ধার বাড়ে। তবে প্রথম দুই ম্যাচ হারা পোল্যান্ডও ভয়ডরহীন ফুটবল খেলে। ফলে সমানে সমানে লড়াইতে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
তবে, তারকা আর অভিজ্ঞতায় ভরা ফ্রান্সই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, গোলের সুযোগ তৈরি ও বল দখলের ক্ষেত্রে পোলিশদের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছু আগে পোল্যান্ডকে চেপে ধরে ফ্রান্স। দেম্বেলে ও এমবাপে দুটি দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও তা থেকে গোলবঞ্চিত হয় তারা। ফলে জাল অক্ষত রেখেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেলিশদের চেপে ধরে গোল আদায় করে নিতে তৎপর হয় ফ্রান্স। প্রথম পাঁচ মিনিটে তিনটি শট নেয় তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা কোনোভাবেই মিলছিল না।
এনগলো কন্তের শট রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর এমবাপের বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন পোলিশ গোলরক্ষক লুকাস স্পোরুপস্কি। এরপর এমবাপের আরও একটি শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটেই চাপের মুখে পেনাল্টি আদায় করে নেন দেম্বেলে। ডান দিক থেকে বক্সে ঢোকামাত্রই দেম্বেলেকে ফাউল করে বসেন পোলিশ ডিফেন্ডার ইয়াকুব কিভিওর। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর স্পট কিক থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। ইউরোপ সেরার এই প্রতিযোগিতায় এটিই এমবাপের প্রথম গোল।
এটি চলতি আসরে ফ্রান্সের কোনো ফুটবলারেরও প্রথম গোল। প্রথম ম্যাচে আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ডাচদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা।
এরপর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন দেশম। ব্রাদলি বারকোলা, আদ্রিয়েঁ রাবিও ও এনগলো কন্তেকে তুলে নিয়ে অলিভিয়ে জিরু, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও গ্রিজমানকে মাঠে নামান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের অন্তত প্রথম বিশ মিনিট ফ্রান্সের আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে থাকে পোল্যান্ড। ৭২তম মিনিটে লেভানডফস্কির একক প্রচেষ্টায় সে ধারা থেকে বের হয় তারা। একাই এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন লেভানডফস্কি। তবে তা পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
এরপর ৭৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় পোল্যান্ডও। তবে এখানে এসে হয় চরম নাটকীয়তা। লেভানডফস্কির প্রথম স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন মাইক মাইনিয়ান। তবে তা খারিজ করে দেয় ভিএআর। রিভিউতে দেখা যায়, পেনাল্টি শটের সময় গোল লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মাইনিয়ান। ফলে ফের সুযোগ পান লেভানডফস্কি। দ্বিতীয়বারে আর ভুল করেননি তিনি।
একইপাশে তবে আরও দুর্দান্ত শট নিলে ঠিকদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল ঠেকাতে ব্যর্থ হন মাইনিয়ান। পোস্ট স্পর্শ করে বল ঢুকে যায় গোলে। ফলে ১-১ সমতায় ফেরে পোল্যান্ড।
এরপর আবার পোলিশদের চেপে ধরেও ব্যবধান গড়তে পারেনি ফ্রান্স। ফলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের।



