Wednesday, June 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষ, যেসব সিদ্ধান্ত হলো

পুনর্গঠিত এই কমিটির সুপারিশগুলো দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই পে স্কেলে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে নিচের স্তরের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের সুবিধাও শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে এই বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হয়। পুনর্গঠিত এই কমিটির সুপারিশগুলো দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

পে স্কেল সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলেও সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেডগুলোর ভেতরের বৈষম্য কমাতে নিচের স্তরে বেতন বৃদ্ধির হার অনেক বেশি রাখা হয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের (১ম গ্রেড) মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ায় এই ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত সোমবার (১৮ মে) এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অর্থবছরের শুরু থেকেই এটি কার্যকরের জন্য ইতোমধ্যে কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জিডিপির তুলনায় আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ায় কমিশনের সব সুপারিশ একবারে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে সুপারিশগুলো কাটছাঁট করে তিন অর্থবছরে (তিন ধাপে) বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একবারে বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

বিগত বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাজেট সংক্রান্ত দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়; শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সরকারি সব খাতের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এতে বিশেষ নির্দেশনা থাকবে।

   

About

Popular Links

x