বগুড়ায় চিকিৎসকদের অবহেলায় টনসিলের অপারেশন করতে এসে ভুল চিকিৎসায় শাপলা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১ জুন) রাতে মহানগরীর বাদুড়তলা চকযাদু ক্রসলেনে সারা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত শাপলা বেগম বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বাইগুনী এলাকার রানু মিয়ার স্ত্রী। শাপলা বেগম টনসিল সমস্যায় আক্রান্ত হন। মোশাররফ নামে এক দালালের খপ্পরে পড়ে গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে তাকে বগুড়ার ওই হাসপাতালে ক্রস লেনে সারা হসপিটাল ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অজ্ঞান করার ওষুধ দেওয়ার পরপরই অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে চিকিৎসকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তখনই শাপলার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে হসপিটালেই তার মৃত্যু হয়।
গৃহবধুর মৃত্যুর পর স্বজনদের আহাজারি ও চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এই পরস্থিতিতে হাসপাতালের মূল ফটকে তালা দিয়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
নিহত শাপলা বেগমের স্বামী রানু মিয়া জানান, শিবগঞ্জের বড়িয়ার হাট এলাকার এক চিকিৎসকের পরামর্শে ও মোশাররফ নামে এক দালালের মাধ্যমে এ হাসপাতলে এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, অজ্ঞান করার ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এলাকাবাসীর মতে, এর আগেও এ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে সারা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী জানান, নিহতের মরদেহ বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, বগুড়া মহানগরীর খান্দার এলাকায় সুস্বাস্থ্য ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলায় অহনা (২৮) নামে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কানুচগাড়ী এলাকায় সৃষ্টি জেনারেল হসপিটালে আড়াই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রসূতির অহনার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’ হলেও তার শরীরে ‘বি পজেটিভ’ রক্ত সঞ্চালন করা হয়। এরপর তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের নিলে শনিবার (৩০ মে) তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এছাড়া শহরের কানুচগাড়ী এলাকায় সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আবদুল্লাহ আল আয়ান নামে আড়াই বছরের এক শিশুকে ভর্তি করা হয়। ৩১ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটি মারা যায়। স্বজনদের অভিযোগ সময়মত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না দেওয়ার কারণে শিশুটি মারা গেছে। শিশু আয়ান বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পূর্ব ভেলুরপাড়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী আবদুল আহাদের ছেলে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শরীরে ভুল রক্ত সঞ্চালন করায় ওই নারীর ও নার্সের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এসএম নূর ই শাদীদ জানান, ঘটনাগুলো তাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ না পেলেও তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



