একটানা কাজ, দুঃশ্চিন্তা ও ক্লান্তির কারণে আমাদের প্রায়ই মাথাব্যথা, অবসাদ দেখা দিতে পারে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে এসব উপসর্গকে আমরা অনেক সময় সাধারণ সমস্যা হিসেবে ধরে নেই। তাইতো অনেক সময় ছোটখাটো অসুবিধা এবং গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে পার্থক্য করা বরং কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু উপসর্গ ক্রমাগত দেখা দিলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন - ব্রেন টিউমার এমনই একটি রোগ। এর সূক্ষ্ম লক্ষণগুলোকে বেশিরভাগ সময় মাইগ্রেন বা সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে ভুল হতে পারে।
মাথাব্যথা
সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গের মধ্যে একটি হলো মাথাব্যথা যা সাধারণ মাইগ্রেনের মতো অনুভূত হয় না। এটি ধীরে ধীরে খারাপ হতে পারে, ঘন ঘন ঘটতে পারে, বা তীব্র বোধ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে সকালে ব্যথা বেশি হতে পারে। অনেকেই এগুলোকে ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা বা কাজের চাপ বলে উড়িয়ে দেন।
অকারণে বমি বমি ভাব
বমি বমি ভাব বা বমি যা ঘন ঘন হয় এবং বিশেষ করে সকালের সময় ঘটে, তা মাঝে মাঝে মস্তিষ্কে উচ্চ চাপের কারণে হতে পারে। লক্ষণগুলো সাধারণত অ্যাসিড বা হজমের সমস্যার জন্য দায়ী করা হয়। তাই এক্ষেত্রে অনেক সময় এই লক্ষণ সবাই এড়িয়ে যায়।
দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
JAMA Network-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, মস্তিষ্কের টিউমার কখনও কখনও দৃষ্টিশক্তির প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ঝাপসা দেখা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, আলোর ঝলকানি বা পাশ থেকে দেখতে অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরনের উপসর্গগুলো বেশিরভাগ সময় চোখের চাপ বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বলে ভুল হয়।
ভুলে যাওয়া বা কথা বলার অসুবিধা
কিছু ব্যক্তি ঘন ঘন ভুলে যাওয়া, মনোযোগ দিতে সমস্যা, বিভ্রান্তি বা কথোপকথনের সময় সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা অনুভব করতে পারে। এই উপসর্গগুলো সহজেই মানসিক অবসাদ, স্ট্রেস বা বার্নআউট মনে করে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু সব সময় তা না-ও হতে পারে। তাই এ ধরনের লক্ষণ ঘন ঘন দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
দুর্বলতা বা প্যারাপারেসিস
কখনও কখনও দুর্বলতা বা প্যারাপারেসিস অনুভব করতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেও সতর্ক হতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
মাথা ঘোরা
হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে অসুবিধা বা সিঁড়ি ব্যবহার করার সময় অস্থির বোধ করা সমস্যার সংকেত দিতে পারে। এই লক্ষণগুলোকে বেশিরভাগ সময় দুর্বলতা বা নিম্ন রক্তচাপ বলে মনে করা হয়। তবে এ ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।



