অটোরিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিনই চাঁদা আদায় করছে কয়েকজন চাঁদাবাজ। এমন তথ্য পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের সামনেই বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন সংবাদকর্মী আনোয়ার হোসেন সৌরভ (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে সংবাদকর্মীকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে, বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে মহানগরীর সাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভ (৩৫) একটি জাতীয় দৈনিকের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে গাজীপুরে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিকের মা আনোয়ারা সুলতানা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৭-৮ জন চাঁদাবাজ তাকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। একপর্যায়ে রাজধানীর মিটফোর্ডের ঘটনার মতো ইট দিয়ে তার মুখ ও মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মুখ ও কপাল বেয়ে রক্ত বের হচ্ছে। পাশেই পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন। পরে তারা ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
থানায় লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা মহানগরীর সাহাপাড়া এলাকায় অটোরিকশা-সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা চাঁদা তোলেন। এ অভিযোগে আনোয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে রক্তিম, সৌরভ, ফরিদসহ ১৫-১৬ জন তার ওপর হামলা করেন। এরপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে একটি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যান। তারপর ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করেন। এসময় তারা দুইটি মোবাইল ফোন ও নগদ ২৬,২৫০ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিককে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ওই সাংবাদিকের মা আনোয়ারা সুলতানা বলেন, “আমার ছেলে সাংবাদিক। কোনো অপরাধ ছাড়াই তাকে নির্মমভাবে মেরেছে। হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আছি। তবে আমরা আতঙ্কিত।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “ওই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”



