“আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।” রাজধানীর পল্লবীতে নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসা আক্তারের হত্যার বিচার নিয়ে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সামনে এভাবেই নিজের চরম আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন (আলোচনা) চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।”
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে প্রতিবেশী সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন।
ডিএমপি কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে রামিসাদের ফ্ল্যাটের ঠিক উল্টো দিকের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা তাকে খুঁজছিলেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে উল্টো দিকের ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে তিনি রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান। রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, ঠিক তখনই ঘরের ভেতরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি সোহেল রানা যেন পেছনের পথ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে পালাতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিতে তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন।
অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে শিশুটিকে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত এবং কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



