Wednesday, July 15, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিলেটের এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর ১০ মাস পর এ রায় ঘোষণা করা হলো

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে খালাসের রায় দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর ১০ মাস পর  এ মামলার রায় দেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “মামলার রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর তারেক, অর্জুন ও রনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া বাকি ৪ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।”

পিপি বলেন, “এই মামলাটি তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রেখেছিল। তখন ভালোভাবে তদন্ত, উপযুক্ত প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়নি। নাহলে সবারই সাজা হতো। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পরে এটির যে এখন বিচার হয়েছে, সেজন্য রাষ্ট্রপক্ষসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলো, সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮)। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গির মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬)।

আর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)।

এর আগে গেল বুধবার মামলার আসা‌মি পক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ সর্বশেষ যু‌ক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এদিনই শেষবারের মতো যু‌ক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে, সিলেটের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটো স্থানান্তর হয়ে আসলে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ধর্ষণের শিকার ওই নারী ও তার স্বামী (মামলার বাদী), মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, আসামিদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তারসহ সর্বমোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য কালো থাবার মুখে আটকে যায় বিচার কার্যক্রম। এখানেই শেষ নয় ক্ষমতার দাপট এতোটাই ছিল যে, ওই সময়ে কোনো আসামিকে আদালতে পর্যন্ত আনা হয়নি। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে প্রায় এক বছর মামলা দুটোর বিচার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকার পরে অবশেষে গতি ফিরে আসে।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তার ১৯ বছর বয়সী নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেটকারে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। প্রাইভেটকারসহ ওই নারীর স্বামীকে জিম্মি করে রেখে তাকে (ওই নারীকে) কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তার স্বামীকে আটকে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করে ও  তাদের সঙ্গে থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামি করে শাহপরান (র.) থানায় মামলা করেন। দেশের অন্যতম পুরনো বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে সরকার ধর্ষণের সাজার আইনের পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। পরে ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডেন বিধান করে জাতীয় সংসদে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০” পাশ হয়।

 

   

About

Popular Links

x