রমজান মাসে রোজা রাখার অজুহাতে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ যাবত অযথা অলস সময় কাটান। এটি শুধু সময় অপচয় নয়, বরং শরীরের ওপরও এর ক্ষতিকর প্রভাব আছে। এমনকি যারা অফিসে বা বাসায় দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে কাজ করেন বিষয়টি তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকার ফলে পা এবং নিতম্বের পেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এই পেশীগুলো মূলত হাঁটা ও স্থির হয়ে দাঁড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিরামহীন বসে থাকা কোমরের ফ্লাক্সর পেশীগুলোকে ছোট করে দেয়। ফলে এগুলোর সঙ্গে নিতম্বের জয়েন্টগুলোর অসঙ্গতি তৈরি হয়।
এই পেশীগুলো দুর্বল হয়ে গেলে সামান্য হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার পরেও গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বসে বসে অনেক সময় পার করলে হজম প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে না। ফলে খাওয়ার সময় শরীরে প্রবেশকৃত চর্বি ও শর্করা শুধুমাত্র চর্বি হিসাবেই জমা হতে থাকে। এই বিষয়টি এমনকি বসে বসে অনেক ক্ষণ ধরে ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকার ফলে পিঠের সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে বসার ভঙ্গিটা যদি দুর্বল হয়। দুর্বল অঙ্গবিন্যাস মেরুদণ্ডের চাকতিগুলোকে সংকুচিত করে দিতে পারে। চরম অবস্থায় এটি মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া ভাঙনের দিকে পরিচালিত করে, যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক।
দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে থাকার ফলে শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। খুব বেশিক্ষণ বসে থাকার ফলে পায়ের শিরাগুলোতে রক্ত প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। মেডিকেলের পরিভাষায় এই সমস্যার নাম ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি)। এর ফলে ফুসফুসসহ শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।



দাঁত ব্রাশ করলে কি রোজা ভেঙে যায়?
রোজায় কি চুল-নখ-দাড়ি কাটা যাবে?