Wednesday, August 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফুচকা-চটপটিতে লুকিয়ে আছে ‘শিগেলা’ জীবাণু

সাধারণ ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের চেয়ে এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

বিকেল হলেই পাড়ার মোড়ে বা জনবহুল ফুটপাতে ফুচকা আর চটপটির দোকানে মানুষের ভিড় জমে ওঠে। টক-ঝাল-মিষ্টির রসাল স্বাদ আর কড়কড়ে ফুচকার কামড়ে যে তৃপ্তি, তা এড়িয়ে যাওয়া যেকোনো ভোজনরসিকের জন্যই কঠিন। কিন্তু এই প্রিয় মুখরোচক খাবারটিই যদি আপনার জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়? 

সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে ‘শিগেলা’ (Shigella) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ফুচকা ও চটপটি থেকেই এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।

শিগেলা কী?

শিগেলা হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এই সংক্রমণকে বলা হয় ‘শিগেলোসিস’ (Shigellosis)। এটি পেটের মারাত্মক ইনফেকশনের সৃষ্টি করে। সাধারণ ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের চেয়ে এটি অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রামক এই ব্যাকটেরিয়া খুব অল্প পরিমাণেই শরীরে ঢুকলে মানুষকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। সাধারণত দূষিত খাবার বা পানি এবং অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। 

ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও জ্বর। কিছু ক্ষেত্রে মলে রক্ত বা শ্লেষ্মা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

যেভাবে ছড়ায় শিগেলা

দূষিত টক পানি: ফুচকার আসল আকর্ষণ হলো টক পানি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিক্রেতারা ফুটপাতের অনিরাপদ, ফুটিয়ে না নেওয়া পানির সাথে তেঁতুল বা মশলা মিশিয়ে এই টক বানান। এই নোংরা পানিই শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার প্রধান বাসস্থান।

অপরিচ্ছন্ন হাত ও গ্লাভস না পরা: শৌচাগার ব্যবহারের পর সঠিকভাবে হাত সাবান দিয়ে না ধুয়ে খাবার তৈরি বা পরিবেশন করলে এই ব্যাকটেরিয়া সরাসরি খাবারে চলে আসে। বিক্রেতারা খোলা হাতে মশলা মাখালে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

একই বালতির পানিতে থালা বাসন ধোয়া: দিনভর একই নোংরা পানি ভর্তি বালতিতে বারবার প্লেট ও বাটি চুবিয়ে ধোয়া হয়। ফলে একজনের শরীরের জীবাণু সহজেই অন্যজনের প্লেটে ছড়ায়।

মাছি ও ধুলোবালি: রাস্তার পাশে খোলা অবস্থায় রাখা আলু, ডাল ও মশলায় প্রতিনিয়ত ধুলোবালি পড়ছে এবং মাছি বসছে, যা অতি সহজেই ব্যাকটেরিয়া বহন করে আনে।

আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণসমূহ

দূষিত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে:

  • পেটে তীব্র মোচড় ও প্রচণ্ড ব্যথা।
  • বারবার পাতলা পায়খানা এবং এর সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা (মিউকাস) যাওয়া (রক্ত আমাশয়)।
  • দ্রুত শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া ও তীব্র জ্বর আসা।
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেওয়া।

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা শিগেলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ডায়রিয়ার কারণে তাদের শরীরে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদেরও গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়

যদি ফুচকা বা চটপটি খাওয়ার পর পেটে তীব্র ব্যথা বা আমাশয়ের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। লক্ষণ তীব্র হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। শিগেলা সংক্রমণ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্ন খাবার, ভালো হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং সঠিক স্যানিটেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা গেলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

   

About

Popular Links

x