ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮টিতে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৪টি হরিণ ও চারটি বন্য শুকর। প্রাণীগুলো বনের বিভিন্ন পয়েন্টে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২ জুন) রাত পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে এসব প্রাণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গত সাত দিনে বনের বিভিন্ন স্থানে প্রাণীগুলো পাওয়া গেছে।
সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “রবিবার রাত পর্যন্ত ১৩৮টি প্রাণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া ১৮টি হরিণ ও একটি অজগর সাপ জীবিত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেগুলোকে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা মৃত প্রাণীগুলো মূলত কটকা, কচিখালী, দুবলা, নীলকমল, আলোরকোল, ডিমের চর, পক্ষীরচর, জ্ঞানপাড়া, শেলার চর এবং বিভিন্ন নদী ও খালে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে।”
মিহির কুমার দো আরও বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে দফায় দফায় উচ্চ জোয়ারে সুন্দরবনের সব নদী-খাল উপচে বনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এই জোয়ারের উচ্চতা ছিল ১০-১২ ফুট। জলোচ্ছ্বাস বনের গহীনে ছিল ৪৮ ঘণ্টা। ফলে হরিণগুলো দীর্ঘ সময় ভেসে ছিল। কিন্তু সাঁতরে কূলে উঠতে পারেনি। এ কারণে মারা গেছে। বন বিভাগের অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ছয় কোটি ২৭ লাখ টাকা।”
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নুরুল কবির ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বেশকিছু হরিণকে পাতলা পায়খানা করতে দেখা গেছে। লবণাক্ত পানি পানের ফলে এমনটা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। মৃত প্রাণীগুলোর বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। বাকিগুলো ঝড়ের আঘাতে মারা গেছে।”



পাঁচ দিনে সুন্দরবন থেকে ৫৪ মৃত হরিণ উদ্ধার