নাছির উদ্দিন নাছির পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপান স্টাডিজ বিভাগে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র-জনতার অভুত্থান, সমকালীন ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষাঙ্গন ও আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সিয়াম সারোয়ার জামিলের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে, ছাত্রদল কীভাবে দেখে বিষয়টাকে?
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে, এরকম সামগ্রিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শুনিনি। কোথাও কোথাও ছাত্রলীগের নির্যাতনে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দিয়েছে। সেটা সামগ্রিক নয়। ছাত্র-জনতার গণঅভুথানে একটি নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। এটা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল।এই আন্দোলন বরং শিক্ষার্থীদের শিখিয়েছে, দেশ নিয়ে তাদের ভাবা উচিত। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝেছে, দেশকে রক্ষা করতেই শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে আসা উচিত। বৈষম্যবিরোধী বিরোধী ছাত্র আন্দোলন- সমগ্র ছাত্র সমাজের একটি প্ল্যাটফরম। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এতে ছাত্রলীগ বাদে ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠনই কাজ করছে। ছাত্রলীগের নির্যাতন-অপরাধের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে যেটুকুওবা শঙ্কা আছে, সেটা শিক্ষার্থীবান্ধব কাজের মধ্য দিয়ে, তাদের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে সেটা দুর করা সম্ভব।
আপনারা এই পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করবেন ক্যাম্পাসগুলোতে?
অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে সামনে। পুরোনো রাজনৈতিক ধ্যান ধারণা, ছাত্র রাজনীতির ধারা থেকে বের হওয়া উচিত। ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে একটি ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি ধারা শুরু করতে চায়। আগামী দিনের রাজনীতি হবে শিক্ষার্থীবান্ধব। টেন্ডারবাজি, গুম, খুন, নির্যাতন-এসব বন্ধ করে ক্যাম্পাসে সুস্থধারা ফিরিয়ে আনবো।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রদল কীভাবে কাজ করেছে?
এই আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রদল কাজ করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-নামক যে প্ল্যাটফরম- তার অংশীদার হিসেবেই ছাত্রদল সক্রিয় থেকেছে, এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের ৪৯ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন।
নতুন সরকার কেমন হয়েছে?
সবার মতামত নিয়ে একটা অন্তর্বতীকালীন সরকার হয়েছে। কেমন হয়েছে, এটা আরো সময় গেলে বোঝা যাবে। তাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। সেই কাজে তারা কতটা তৎপর, কতটা ইতিবাচক, সেটা দেখে বোঝা যাবে, সরকার কেমন হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী- প্রত্যেকটি নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারেনি। আশা করছি, এক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকার পরিবেশ তৈরি করতে পারবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের। তরুণ ভোটাররাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।
উপদেষ্টা পরিষদে আসিফ-নাহিদ দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন?
দুই শিক্ষার্থী উপদেষ্টা হয়েছেন। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তারা দ্রুতই তৈরি করতে পারবেন।
আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে কী ভাবছেন?
এবারই প্রথম সম্ভবত এমন ঘটনা ঘটেছে যে, ছাত্রলীগ বাদে সব ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সবাই স্বতস্ফুর্তভাবে একসঙ্গে হয়েছে। শ্রমিক মেহনতি মানুষের অংশগ্রহণে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, সমতার রাজনীতি। খুনী স্বৈরাচারের কর্মকাণ্ড দেখে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সম্মুখ সারিতে ছাত্রদল ছিল এই আন্দোলনের। আশা করছি, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবার সহযোগিতা পাব।



