লালমনিরহাটে একটানা ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না, রাতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ায় কাহিল বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষ।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠাণ্ডায় কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী ছাউনিতে বৃহস্পতিবার রাতে ঘুমন্ত অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তুষভান্ডার রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার মো. নিজাম উদ্দিন। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, যেহেতু অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি, তাই স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যর সহযোগিতায় শুক্রবার কবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, তীব্র শীতের কারণে হাটবাজারে লোকজনের উপস্থিতি কমে গেছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে জেলার বুড়িমারী মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
অপরদিকে, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে গ্রামের শ্রমজীবী মানুষজন বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা কাবু হয়েছে বেশি। শীত নিবারণে অনেকেই খড়কুটা জ্বালিয়ে খানিকটা উষ্ণতা অনুভব করার চেষ্টা করছে। তবে শীতের কাপড়ের দাম বেশি হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, “শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
ঠাণ্ডা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে, জেলার সদর হাসপাতালসহ ৪ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের পোশাক বিতরণের তৎপরতা অনেক কম বলে অভিযোগ করেছেন শীতার্ত দরিদ্রা।
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “ঠাণ্ডার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে আমাদের শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।”



