২০২৫ সালের মে মাসে শহরাঞ্চলে খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও গ্রামাঞ্চলে কমেছে। তবে শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে দুই জায়গাতেই খাদ্য বহির্ভূত খাতে খরচ কমার প্রভাব পড়েছে সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতিতেও।
সোমবার (৩ মে) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৫%, যা ২৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে কম ছিল সবশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, ৮.৮৭%। এরপর থেকেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে থাকে।
এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৮৯%। জুলাই মাসে আন্দোলনের সময় মূল্যস্ফীতি দাাঁড়ায় ১১.৬৬%।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, গত এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৬৩% ছিল, মে মাসে সেটি আরও কমে ৮.৫৯% দাঁড়িয়েছে। খাদ্য বহির্ভূত খাতে মে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২%, যা এপ্রিলে ছিল ৯.৬১%।
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে শহরাঞ্চলে খাদ্য কেনায় খরচ এপ্রিলের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এই খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.২৯%; যা এপ্রিলে ছিল ৯.১৩% ছিল। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। মে মাসে হয়েছে ৮.৩০%, যা এপ্রিলে ছিল ৮.৪০%।
আর খাদ্য বহির্ভূত খাতে গ্রাম এবং শহর দু জায়গাতেই কমেছে। গ্রামে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৯.৮৬% থেকে কমে মে মাসে ৯.৭৫% হয়েছে। শহরে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৯.৮৮% থেকে কমে মে মাসে দাঁড়িয়েছে ৯.৬৩%।
প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬.৫% নামিয়ে আনার আশাবাদ
সোমবার ঘোষিত প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬% নামিয়ে আনার লক্ষ নির্ধারন করেছে সরকার।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়।
মুদ্রা সরবরাহ কমাতে বারবার সুদহার বাড়ানো হয়। এর ফলে অর্থের চাহিদা কমায় মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখিতার প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে নিত্যপণ্যের বাজারে তেমন সুফল দেখা যাচ্ছে না।



