Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্কুল থেকে মেয়েকে নিতে এসে নিখোঁজ মা, ফেসবুকে ঘুরছে পোড়া এনআইডির ছবি

মেয়ে জাইরাকে স্কুল থেকে নিতে আসার পর থেকে আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ১০:৪১ পিএম

মোবাইল ফোনে পোড়া একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ছবি দেখিয়ে এক নারীর সন্ধান করছিলেন সাথী আক্তার নামের আরেক নারী। মোবাইল ফোনে যে নারীর এনআইডির ছবি, তার নাম লামিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি সাথী আক্তারের খালা।

স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজার কিছুক্ষণ আগেই মেয়েকে নিতে এসেছিলেন লামিয়া আক্তার সোনিয়া। প্রতিদিনের মতো মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের সামনে। কিন্তু আজকের দিনটি আর আগের দিনের মতো থাকল না। দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে আকাশ থেকে ছুটে আসা বিমানটি আছড়ে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হায়দার আলী ভবনে। মুহূর্তেই বিস্ফোরণ আর আগুনে ভস্মীভূত সবকিছু। ছিন্নভিন্ন দেহ, পুড়ে যাওয়া বই-খাতা, স্কুলব্যাগ আর জুতা- এই ছিল সেখানের দৃশ্য, যা ভোলার মতো নয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাথী আক্তার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে জানান, দুপুরে মেয়ে আসমাউল হোসনা জাইরাকে স্কুল থেকে নিতে এসেছিলেন তার খালা। এর পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মেয়ে আসমাউলকে পাওয়া গেছে। লামিয়া আক্তারের পোড়া এনআইডির ছবি ফেসবুকে দেখতে পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

আসমাউল হোসনা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় জাইরার কিছু হয়নি, সে নিরাপদেই ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

সাথী আক্তারের স্বামী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘ঢাকার যেসব হাসপাতালে হতাহতদের নেওয়া হয়েছে, সব হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কোথাও লামিয়াকে পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ আছে। সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’’

উম্মে আফিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থীর খোঁজ করছিলেন তার স্বজনেরা। সে স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। আফিয়ার বাবা আব্দুল কাদির, মা তানিয়া আক্তার।

আফিয়ার চাচি শম্পা আক্তার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘আফিয়ার ক্লাস শেষ হয় দুপুর ১টায়। কিন্তু ক্লাস শেষের পর সে স্কুলেই কোচিং করত। তাই তখন আফিয়াকে কেউ নিতে আসেনি। দুর্ঘটনার পর থেকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে এখনও কোথাও পাইনি।”

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে এ পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে।

   

About

Popular Links

x