জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে “৩৬ জুলাই: আমরা থামব না” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সেখানে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত নেতাদের ছবির প্রদর্শনী করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ছবিগুলো সরিয়ে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগও দাবি করেছে তারা।
বুধবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, গত বছরের এই দিনে সারা বাংলাদেশের লড়াকু শহিদদের জীবন এবং আহত সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিতে চেয়েছি একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার। অথচ এই দিনে দাঁড়িয়ে আমরা দেখলাম, বাংলাদেশের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামসহ মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির প্রাঙ্গণে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের আত্মদানকে অপমান করল ইসলামি ছাত্রশিবির।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাকারী পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তাকারী আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী ও গণহত্যার দায়ে চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনীতে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে চব্বিশের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি কাজ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নাগরিকেরা এসব ছবি প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বা তার কার্যালয় সারাদিনে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। পরবর্তীতে আমরা সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানতে পারি যে, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিবাদের মুখে প্রক্টরিয়াল টিম বেশ ধীর গতিতে এই ছবিগুলো অপসারণ করে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল টিম আরও আগে ব্যবস্থা নিলে এবং গাফিলতি না করলে পরিস্থিতি এত দ্রুত উত্তেজনাকর হয়ে উঠত না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা জানি, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা রয়েছে এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাস্তি নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে যা বিতর্কের উর্ধ্বে, তা হলো এই যুদ্ধাপরাধীদের একাত্তরের গণহত্যার দায়। কারণ বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হলেই অপরাধের দায় থেকে মুক্ত হওয়া যায় না।
এছাড়াও বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক দাবি জানিয়েছে-
১. ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনই যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে না।
২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করতে হবে।
৩. দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রক্টরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে ও ছড়িয়ে দিতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট স্মারক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।



টিএসসিতে শিবিরের প্রদর্শনীতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি, সরানো হলো ক্ষোভের মুখে