সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি অবন্তিকার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় আসামি আম্মানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় অপর আসামি জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহিত দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সুরতহাল অনুসারে মৃত্যুর সময় রাত ৯টা। কিন্তু ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর ৫৫ মিনিট পর কে এই পোস্ট দিয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১৫ মার্চ অবন্তিকা রোজা ছিলেন। সন্ধ্যায় ইফতারি করার পরে অবন্তিকা তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় তার মা ও তার ভাই জারিফ বাসাতেই ছিলেন। রাত অনুমান ৯টার সময়ে ভিকটিম অবন্তিকাকে তার নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁসি লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি সুরতহাল প্রতিবেদনে পর্যালোচনায়ও প্রতীয়মান হয়েছে।
রবিবার (১১ আগস্ট) জমা দেওয়া পুলিশের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার ঘটনার পর অবন্তিকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলের কক্ষেই রাখা ছিল। ওই সময়ে ঘটনাস্থলে বাদী মা তহমিনা বেগম ও অবন্তিকার ভাই জারিফ জাওয়াদ অপূর্ব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ভিকটিমের (অবন্তিকা) ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে উল্লিখিত ফেসবুক পোস্ট কে করেছিল উক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং এ বিষয়ে কোনো বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় অবন্তিকা ও আম্মানের মধ্যে মেসেজ আদান প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়। তবে অবন্তিকা ও দ্বীন ইসলামের মধ্যে মেসেজ আদান প্রদানের কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই।
এছাড়া, পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর অবন্তিকা আইন বিভাগের চেয়ারম্যানকে মাধ্যম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর মোস্তফা কামালকে একটি অভিযোগ দেন। তবে সেটি আমলে নেননি সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড.মোস্তফা কামাল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, “অবন্তিকার মায়ের করা মামলায় আম্মান ও দ্বীন ইসলামকে আসামি করা হয়। তদন্তে জবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সকল কিছু পর্যালোচনা করে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি আদালতে। সুরতহাল অনুযায়ী অবন্তিকা ৯টার সময় মারা যায়। পরবর্তীতে কে এই পোস্ট ফেসবুকে করেছে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি।”
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.রেজাউল করিম বলেন, “পুলিশি প্রতিবেদন জমা হয়েছে শুনেছি। আইনগতভাবে দ্বীন ইসলামের যোগদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে অবন্তিকা ফেসবুকে লেখেন, “আমি যদি কখনও সুইসাইড করে মারা যাই মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী। আর তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে সাপোর্ট করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে শিক্ষক দ্বীন ইসলামকে ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। ১৬ মার্চ ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মা তহমিনা বেগম একটি মামলা করেন। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয় সাবেক সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে। তারা গ্রেপ্তারের পরে জেলও খাটেন। ১৭ মাসের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত রবিবার পুলিশ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।



জীবনের শেষ পরীক্ষায় তৃতীয় সেই অবন্তিকা