Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘বাইরের’ অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেন স্থানীয় চালকেরা, ধস্তাধস্থির মধ্যেই নবজাতকের মৃত্যু

দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর চিকিৎসা না পেয়ে নবজাতক শিশুটি মারা যায়

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ০৩:০২ পিএম

শরীয়তপুরে একটি রোগী বহন করা ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স পথে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন চালকের বিরুদ্ধে। এ কারণে চিকিৎসা না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে একটি ক্লিনিকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই নবজাতক শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পর পরই শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা হলে পথিমধ্যে চৌরঙ্গী মোড়ে সবুজ দেওয়ান নামের একজন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক তাদের অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করার কারণ দেখিয়ে তিনি চালককে মারধর করেন ও চাবি ছিনিয়ে নেন। আরও কয়েকজন স্থানীয় চালকও এ ঘটনায় অংশ নেন। তারা ওই চালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় ওই নবজাতক শিশুর স্বজনরা বাধা দিতে চাইলে তাদেওর লাঞ্ছিত করা হয়। এ অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর চিকিৎসা না পেয়ে নবজাতক মারা যায়।

ঘটনা প্রসঙ্গে শিশুটির নানি সেফালী বেগম সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘আমরা গরিব মানুষ। অল্প খরচে ঢাকায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করি। কিন্তু স্থানীয় আরেক চালক এসে বাধা দেয়। তারা বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হবে বলে দাবি জানায়। আমার নাতি চিকিৎসা পায়নি, মারা গেছে। সন্তান জন্মের পর থেকে আমার মেয়ে এখনও অচেতন হয়ে আছে। তার জ্ঞান ফিরলে কীভাবে খবরটি দেব?”

ভুক্তভোগী অ্যাম্বুলেন্সের চালক মোশারফ মিয়া বলেন, ‘‘আমি ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে শরীয়তপুরে এসেছিলাম। ফেরার পথে ওই হাসপাতালের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। শিশুর স্বজনেরা আমার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। রওনা হওয়ার পর সবুজ বাধা দেয়। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে চাবি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়।’’

ঘটনা প্রসঙ্গে শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক সমিতির সভাপতি আবদুল হাই জানান, অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার কথা শুনে তাদের রোগীসহ ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা শোনেনি।

এ ঘটনায় পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’’

   

About

Popular Links

x