Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনায় নদীভাঙন আতঙ্কে ১৩ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ

যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৩ পিএম

ফের নদীভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। ভদ্রা নদী সংলগ্ন কালিনগর ওয়াপদার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরের ২২ আগস্ট একই এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো ২২নং পোল্ডার প্লাবিত হয়। দীর্ঘদিন পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল স্থানীয়দের। আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে হাজারো মানুষকে রাস্তার পাশে দিন কাটাতে হয়েছিল।

চলতি বছরের আগস্টেও আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, বর্তমানে কালিনগর সাধুঘাটের অমল কবিরাজের বাড়ি থেকে প্রভাষ মণ্ডলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার বাঁধে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয়রা বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজের সভাপতিত্বে ও ইউপি সদস্য পলাশ কান্তি রায়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সমরেশ হালদার, ইউপি সদস্য রামচন্দ্র টিকাদার, রিংকু রায়, বদিউজ্জামান, মেরি রাণী, জামায়াত নেতা মোস্তফা সরদার, প্রভাষক কল্যাণ মণ্ডল, ধীমান মণ্ডল, দ্বিজেন্দ্র নাথ মণ্ডল, সন্তোষ গাইন, উৎপল রায়, শিশির মণ্ডল, শিমুল মণ্ডল, মিহির সরকার, শ্যামল কান্তি রায়, মালতী মণ্ডল, শিক্ষার্থী পিয়া মণ্ডল ও তৃপা সরকারসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, প্রতিবার ভাঙন হলে আমরা ত্রাণ পাই, কিন্তু টেকসই বেড়িবাঁধের ব্যবস্থা করা হয় না। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান।

বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছেন স্থানীয়রা

দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সমরেশ হালদার বলেন, “প্রতি বছরই বাঁধে ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। এতে লবণপানি ঢুকে কৃষিপ্রধান এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীশাসন না করে মানুষের জমি নষ্ট করে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় টেকসই হচ্ছে না। তাই টেকসই বাঁধ দরকার।”

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজ বলেন, “দেলুটি ইউনিয়নের উত্তরে মরা ভদ্রা নদী, দক্ষিণে শিপসা নদী এবং পূর্বে মাদুর পাল্টাসহ ভদ্রা নদী। পাঁচটি ওয়ার্ডের ১৩টি গ্রাম নিয়ে ২২ নম্বর পোল্ডার। এই পোল্ডারে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার তরমুজ ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন হয়।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, “কালীনগরে বেড়িবাঁধের ফাটল ও ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হচ্ছে। এছাড়া পোল্ডারের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত বছর বাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ লবণ পানিতে বন্দি হয়েছিল। পানির তোড়ে ঘেরের মাছ, মাটির তৈরি ঘর, ধান, সবজি ও ফসল ভেসেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কালীনগর, দারুল মল্লিক, হরিণখোলা, সৈয়দখালি, সেনেরবেড়, গোপীপাগলা, খেজুরতলা, তেলিখালী, হাটবাড়ী, ফুলবাড়ি, বিগরদানা, দুর্গাপুর ও নোয়াই গ্রামের মানুষ। এবারও ওই ভাঙন এলাকার এক কিলোমিটার দূরে ৪০০ মিটার অংশে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

গত ২০ বছরে অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। ১৩টি গ্রামে লবণপানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল।

   

About

Popular Links

x