Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডাকসু নির্বাচনে ‘সেনা মোতায়েনের’ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের

ডাকসুর ভোটের দিন ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে থাকবে সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ ও তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশ মুখে “স্ট্রাইকিং ফোর্স” হিসেবে অবস্থান নেবে সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু ও হল সংসদের প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার মতবিনিময় সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

তবে সেনা মোতায়েনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সেনা মোতায়েনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, “সামগ্রিক নিরাপত্তা” নিশ্চিত করা এবং ভোট গণনার সময় কোনো “অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি” এড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তে নেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রসংগঠনগুলোর পরামর্শ না নেওয়ায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য “নির্বাচনী প্রকৌশল” হিসেবে দেখছেন। এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে কি-না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

সেনা মোতায়েনের যথার্থতা নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্যানেলই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কিছু ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কর্মী ও পুলিশ দিয়ে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যরা আশঙ্কা করছে, এ ব্যবস্থা ভোটার উপস্থিতি ও নির্বাচনের গণতান্ত্রিক চরিত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

ডাকসু নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার ড. গোলাম রাব্বানী ও বেশ কয়েকজন ভিপি প্রার্থী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।

মঙ্গলবার বিকেল ড. গোলাম রাব্বানী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভোট গণনার সময় ভোটকেন্দ্র সেনাবাহিনী দিয়ে ‘করডন’ করার সিদ্ধান্ত কমিশনের। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এটা করা হবে।”

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনাসদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রধান প্রবেশপথে অবস্থান করবে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকে ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা ভোটকেন্দ্র ঘিরে রাখবে যাতে কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে না পারে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া

ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেখানে “সেনাবাহিনী প্রহরায়” নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “যেভাবে আপনারা (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সেনা সুরক্ষায় রাখছেন, তাতে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রকৌশল হতে যাচ্ছে কি-না; তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে।”

উমামা ফাতেমার নেতৃত্বাধীন “স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য” সেনা মোতায়েন “যথাযথ” মনে করছে না। তারা বিকল্প হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী, বিএনসিসি ও প্রয়োজনে পুলিশ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।

অতীতে সেনা ও ডাকসু সংক্রান্ত ঘটনার কথা উল্লেখ করে এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “২০২৫ সালের ডিক্সু নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগাচ্ছে।”

বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট কাউন্সিলের প্যানেল “বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ” মনে করে, সেনা মোতায়েনের মতো একটি বিষয় সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেটি “বিবেচনায়” নেওয়া হয়নি।

এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মতামত শুনে এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেব।”

বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের জোট প্যানেল “প্রতিরোধ পরিষদ” মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হাতে সেনা মোতায়েন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ, প্রক্টরিয়াল টিম যথেষ্ট সক্ষম নয় এবং পুলিশ বাহিনীও তেমন “বিশ্বাসযোগ্য” নয়।

এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটি শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব নয়।”

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রক্টরিয়াল টিম ও বিএনসিসির সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে নিরাপত্তা থাকবে।

তৃতীয় ধাপ হচ্ছে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনা মোতায়েন। সেনাসদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রধান প্রবেশপথে অবস্থান করবে। এগুলো হলো- শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, শিববাড়ি মোড়, ফুলার রোড, পলাশী মোড় ও নীলক্ষেত।

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করবে।

ভোট শেষ হওয়ার পর সেনারা প্রতিটি কেন্দ্র ঘিরে রাখবে এবং ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

   

About

Popular Links

x