জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন। জানা যায়, পদত্যাগের পর তাদের পক্ষ থেকে একটি খোলাচিঠি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) মানবাধিকার কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহী সংবাদমাধ্যমকে জানান, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আগের কমিশন বাতিল হয়ে গেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হবে। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে করা “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন” আবার চালু করতে বিল পাস করে সংসদ।
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেয়। কমিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত গুম কমিশনের সদস্য মো. নূর খান, নাবিলা ইদ্রিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান।
এদিকে, পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিদায়ী কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পদত্যাগের কথা বলা হয়নি। একধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছে। যেহেতু তারা আগের অধ্যাদেশের পরই দায়িত্ব পেয়েছিলেন, এখন তা বহাল না হওয়ায় পদত্যাগ করাকেই সমীচীন মনে করেছেন।
অন্যদিকে, মানবাধিকার কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহীও বলেন, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আগের কমিশন আর নেই। তবে কমিশন সদস্যদের ‘খোলাচিঠি’ তিনি পড়েননি বলে জানান।



