Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ম্যাডাম’ সম্বোধনেই চটলেন এসআই রোখসানা, যুবককে হাজতে হেনস্তা

বিনা অপরাধে লাঞ্ছিত হওয়ায় ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্তব্যরত এক নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোখসানা খাতুনকে “ম্যাডাম” সম্বোধন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। পরে ওসির হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন পিকআপ চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মামুনের এক বন্ধু গ্রেফতার হওয়ায় তার সাথে দেখা করতে তিনি থানায় যান। সে সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এসআই রোখসানা খাতুন। মামুন তাকে সালাম দিয়ে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই তিনি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর মামুনকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক কক্ষে আটকে রাখা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে মামুনের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় ভিড় করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্বজনদের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। রেজাউল করিম, হাসান ও ইমরান হোসেন নামে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ইতিপূর্বেও থানায় বিভিন্ন প্রয়োজনে গেলে ওই নারী কর্মকর্তা তাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ধমক দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।

এমনকি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এসআই রোখসানার খামখেয়ালি মেজাজ ও আচরণের কারণে সহকর্মীরাও প্রায়ই অস্বস্তিতে থাকেন।

শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিকভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ম্যাডাম’ ডাকায় যুবককে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে এসআই রোখসানা খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। 

এদিকে, বিনা অপরাধে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন।

   

About

Popular Links

x