Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দক্ষিণ এশিয়ায় বর্জ্য উৎপাদনে তৃতীয় বাংলাদেশ

২০৫০ সালে বার্ষিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৬৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৫০.৬৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

বাংলাদেশে বর্জ্য উৎপাদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হারকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলছে, দ্রুত নগরায়নের ফলে বর্জ্য উৎপাদনের হার বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু দৈনিক ০.৫২ কেজি বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা ভারতের চেয়েও বেশি। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বর্জ্য উৎপাদনে এখন তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। 

২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২৮% বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও, বর্জ্য উৎপাদন বাড়বে তার দ্বিগুণ গতিতে। বার্ষিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৬৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৫০.৬৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশের মোট বর্জ্য ছিল ৩১.৬৪ মিলিয়ন টন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে তা ৩৫.৮৩ মিলিয়ন এবং ২০৪০ সালে ৪০.২৭ মিলিয়ন টনে গিয়ে ঠেকবে।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক বর্জ্য উৎপাদনের সিংহভাগ (৯৭%) ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আসছে।     

বাংলাদেশের বর্জ্য স্তূপের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় - খাদ্য বর্জ্য ১৯.২৫%, কাগজ ও কার্ডবোর্ড ১৮.৩৬% (যা নেপালের ১৬% এর চেয়ে বেশি), প্লাস্টিক ১৭.৬৫%, টেক্সটাইল ৯.৯৫% (ভারত ও আফগানিস্তানের প্রায় দ্বিগুণ), রবার ও চামড়া ৯.৭০% (আঞ্চলিক দেশগুলোর গড় ২% এর নিচে হলেও বাংলাদেশের হার অনেক বেশি), ধাতব বর্জ্য ৯.৪৯% (ভুটানের ৪.৪০% এর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি)।

বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় ভালো। শহরাঞ্চলে সংগ্রহের হার ৯৬.৯৬%, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার গড় ৮৮%। বিশেষ করে ঢাকা ৮৯% বর্জ্য সংগ্রহ করায় লাহোর, করাচি বা কলম্বোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

তবে সংগৃহীত বর্জ্যের রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশে রিসাইক্লিং বা পুনর্নবীকরণ হয় মাত্র ৩.১৪%, যেখানে ভুটান ২৪% এবং আফগানিস্তান ১৯% বর্জ্য রিসাইকেল করে। দেশের ৫৫% বর্জ্য সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো শোধন ছাড়াই ল্যান্ডফিলে ফেলা হচ্ছে এবং প্রায় ২০% বর্জ্য অসংগৃহীত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইনসিনারেট বা পোড়ানোর হারও নগণ্য (মাত্র ০.২৯%)।

আইনি কাঠামো ও উত্তরণের পথ

সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে 'সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস ২০২১' এবং ‘থ্রি আর' (রিডিউস, রিইউজ, রিসাইক্লিং) কৌশল গ্রহণ করেছে। ইপিআর ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এই নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্রমবর্ধমান এই বর্জ্য দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

   

About

Popular Links

x