Sunday, June 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধর্ষণে ১১ বছরের ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: সত্য বলায় হুমকিতে নিরাপত্তা চাইলেন চিকিৎসক

অনলাইনে একের পর এক হুমকি, অপমান এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন তিনি

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে নাড়া দিয়েছে। এই মর্মান্তিক তথ্য প্রথম সামনে আনেন এক নারী চিকিৎসক, যিনি এখন নিজের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত।

সরকারি চিকিৎসক সায়মা আক্তার স্থানীয় একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে শিশুটিকে পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। আলট্রাসনোগ্রাফিতে ধরা পড়ে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে উদ্বেগ তৈরি করে।

তবে সত্য প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় তার জন্য দুঃসহ পরিস্থিতি। অনলাইনে একের পর এক হুমকি, অপমান এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন তিনি। এক ভিডিও বার্তায় চিকিৎসক জানান, তাকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন।

চিকিৎসকের স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই হুমকি আরও বাড়তে থাকে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি চাওয়া, পেশাগত ক্ষতির ভয় দেখানো সব মিলিয়ে চাপের মুখে রয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর মা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত পক্ষ অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

মামলার পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে গেলেও পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল।

   

About

Popular Links

x