Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকাতেই তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ সব মাদক

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানে উঠে এসেছে এসব তথ্য

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে আবাসিক এলাকায় ‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে ভয়ংকর সব মাদক তৈরির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গত চার মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ধারাবাহিক অভিযানে কেটামিন, কুশ, ভেজাল মদ এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি ইয়াবার অন্তত চারটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব চক্রের সঙ্গে দেশি কেমিস্টদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ও ডার্ক ওয়েবে মাদক কেনাবেচার তথ্য মিলেছে।

অস্ত্রোপচারের চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত তরল কেটামিনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করে মাদক হিসেবে বাজারজাত করছে একটি চক্র। গত ২৫ মার্চ উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ক্যাটামিন পাউডার তৈরির ল্যাবের সন্ধান পায়। সেখান থেকে চীনের তিন নাগরিক এবং তাঁদের কাছে তরল কেটামিন সরবরাহের অভিযোগে দুজন ওষুধ বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডার্ক ওয়েবে অর্ডার নিয়ে ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন করে এই মাদক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হতো।

১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। ল্যাবের মালিক তোহিদুজ্জামান শিমুল একজন আয়ুর্বেদিক কেমিস্ট ছিলেন। তিনি ৫০০ আসল ইয়াবা গুঁড়া করে বিভিন্ন রাসায়নিক ও রং মিশিয়ে প্রায় ৫ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন। সেখান থেকে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ তোহিদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর ওয়ারীতে নিজের শোবার ঘরে উন্নত জাতের মারিজুয়ানা বা ‘কুশ’ চাষের ল্যাব তৈরি করেছিলেন তৌসিফ হাসান নামের এক তরুণ। গত ৭ জানুয়ারি তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা বীজ ও তাপমাত্রানিয়ন্ত্রিত ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। তৌসিফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকেই এই প্রযুক্তি ও চাষের পদ্ধতি রপ্ত করে এসেছিলেন।

একই দিন ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। সেখানে দেশি-বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিলগালা করে বাজারজাত করা হতো। এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, গত চার মাসে ঢাকায় অপ্রচলিত মাদক কুশ, কেটামিন এবং মদের ল্যাব পাওয়া গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, অপরাধীরা উন্নত প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে মাদক পাচারে জড়িত হচ্ছে। সাম্প্রতিক ল্যাবগুলোর সন্ধান পাওয়ার পর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

   

About

Popular Links

x