বগুড়ায় পরিত্যক্ত পুকুর থেকে এক নবজাতকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে বগুড়া সদর উপজেলার শেকেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে লাশটি পাওয়া যায়।
এ হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ শিশুটির মা নিপা খাতুন ও সৎ বাবা দুলাল মিয়াকে আটক করেছেন।
শনিবার বিকালে সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, নিপা তার সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও সৎ বাবা দুলাল অস্বীকার করেছেন। তাদের জিজ্ঞাদাবাদ চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, দুলাল মিয়া বগুড়া সদরের শেকেরকোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি চারটি বিয়ে করেছেন। প্রায় এক বছর আগে গাবতলীর উনচরকি গ্রামের নিপা খাতুনের সঙ্গে বগুড়া শহরের শুকুর আলীর বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের সংসারে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর দুলাল মিয়া প্রায় আড়াই মাস আগে নিপা খাতুনকে বিয়ে করেন। এ সময় নিপা অন্তঃসত্ত্বা থাকলে তা গোপন রাখা হয়।
পরে, শুক্রবার বিকালে নিপা ছেলে সন্তান প্রসব করেন। এরপর লোকলজ্জার ভয়ে তিনি নবজাতককে হত্যা করেন। তারপর মরদেহটি বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেন।
শনিবার সকালে গ্রামবাসীরা পুকুরে কচুরিপানার নিচে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে শোক ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নবজাতকের মা নিপা খাতুন ও সৎ বাবা দুলাল মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।



