Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রথমে মাকে হত্যা, পরে বাবা ও বোনকে ছুরিকাঘাত করে ছেলে

 মা দিবসের দিন এমন নির্মম ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাকে হত্যার পর বাবা ও বোনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। 

রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  

নিহত লাকী আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন, বাবা মোস্তফা ভূঞা ও বোন মিথিলা মোস্তফা। অভিযুক্ত ছেলে রাফি মোস্তফা (২১) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মাদক সেবনের টাকার দাবিকে কেন্দ্র করেই এ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব মা দিবসের দিন এমন নির্মম ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাফি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের কাছে মাদকের টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন রাতেও সে মাদক কেনার জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে মা লাকী আক্তার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাফি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘরে থাকা ধারালো ছুরি নিয়ে প্রথমে মায়ের ওপর হামলা চালায়।

মায়ের চিৎকার শুনে বাবা মোস্তফা ভূঞা ও বোন মিথিলা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদেরও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে অভিযুক্ত রাফি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা লাকী আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে গুরুতর আহত মোস্তফা ভূঞা ও মিথিলা মোস্তফার অবস্থার অবনতি হলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেশীরা জানান, রাফির মাদকাসক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিল তার পরিবার। বিভিন্ন সময় তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজুল আজিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাফিকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে মাদকের টাকার দাবিকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

এদিকে বিশ্ব মা দিবসে মায়ের হাতে সন্তানের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

   

About

Popular Links

x