ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি জানিয়েছেন, ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিয়ে তার কর্মসূচি ছিল ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ’ এবং সেই অবস্থান থেকে তিনি সরবেন না।
সোমবার (১১ মে) গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনে থাকা ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমি এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- যে আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমার সঙ্গে রাষ্ট্র অন্যায় করেছে।”
চলতি বছরের গত ৭ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর সময় ইমিকে আটক করা হয়। পরদিন ৮ মার্চ তাকেসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালত।
বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো অপরাধ কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা হয়।
এরপর গত ৩০ এপ্রিল বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। দুই মাস কারাভোগের পর ৭ মে বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান ইমি।
ইমির ভাষ্যমতে, ৭ মার্চ দুপুরে শহীদুল্লাহ হলের সামনে থেকে আসিফ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীকে ‘অন্যায়ভাবে তুলে নেওয়ার’ প্রতিবাদেই তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি নিয়েছিলেন।
চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ এবং এক মাইক অপারেটর আটক হন।
এ বিষয়ে ইমি বলেন, “৭ মার্চের ভাষণ যেহেতু আমাদের গৌরবের একটি অংশ এবং এটি যেহেতু নিষিদ্ধ করা হয়নি কিংবা এটি শুধু আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, এটি আসলে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “তো সেইজন্য আমার মনে হয়েছিলম এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ হওয়া উচিত। সেই কারণে আমি শাহবাগ থানার অপোজিটেই কর্মসূচি দিই, যাতে আসিফকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।



