খুলনার কয়রা উপজেলায় জেলে কার্ডধারীদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিজনের কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে, না দিলে চাল দেওয়া হচ্ছে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
রোববার (১০ মে) দুপুরে বাগালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান সানাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। একেকজন জেলে কার্ডের বিপরীতে ৭৭ কেজি করে সরকারি চাল বরাদ্দ থাকলেও তা নিতে বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়রার বাগালী ইউনিয়নে মোট ৬০৩ জন জেলে কার্ডধারী রয়েছেন। সামুদ্রিক ও সাধারণ জেলেদের জন্য বরাদ্দ হিসেবে প্রতিজনের বিপরীতে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় জেলে আবুল কালাম বলেন, “চাল নিতে গেলে আগে ১০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। না দিলে চাল দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়, তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।” একই অভিযোগ করে আরেক জেলে হায়দার বলেন, “সরকারি চাল পেতে আমাদের টাকা দিতে হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান সানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বলেন, “অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি সম্পর্কে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সামাদ গাজী বলেন, “ঘটনাটি জেলেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



