লিভারজনিত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রথমে তার ফুসফুসের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, এরপর করা হবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট।
সোমবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন কারিনা। তার সঙ্গে গেছেন মা ও দুই ভাই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানান, চেন্নাই পৌঁছানোর পরপরই চিকিৎসকেরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেছেন। বর্তমানে কারিনার ফুসফুসে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “কারিনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হৃদ্যন্ত্র, কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।“
তিনি আরও জানান, দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে ভারতের চিকিৎসকেরা মত দিয়েছেন। এখন নতুন করে পুরো চিকিৎসাপদ্ধতি সাজানো হচ্ছে।
এদিকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিনার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন। কায়সার হামিদ বলেন, ছোট ছেলে সাদাত হামিদের রক্তের গ্রুপ কারিনার সঙ্গে মিলেছে, তবে দুই ভাইয়েরই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে রোববার কায়সার হামিদ জানিয়েছিলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন।



