Tuesday, July 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ, যা বললো পুলিশ

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা আবু কায়সারের (২৭) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে ‌‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বলছে এটি আত্মহত্যা। 

বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নিশ্চিত করেছে যে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন বিএসআরএম ডিপো সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে কায়সারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকায় বসবাস করতেন। বিএসআরএম কারখানায় অস্থায়ী সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই তরুণ।

পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে কায়সার একাই ফ্লাইওভারে হেঁটে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন জানান, সুরতহাল রিপোর্টে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ একে আত্মহত্যা হিসেবে দেখলেও পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

কায়সারের স্বজন ও সহকর্মীদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি নানামুখী চাপে পড়েন এবং পরিবারের আর্থিক অনটন সামলাতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিতে বাধ্য হন।

ছোট ভাই পায়েলের ভাষ্যমতে, কায়সার মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ না পাওয়া এবং অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ মাহবুবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর সাধারণ নেতাকর্মীরা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে থাকলেও নেতারা তাঁদের খোঁজ রাখেননি। একজন নেতার সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেওয়া এবং পরবর্তীতে এই করুণ মৃত্যু সংগঠনের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এদিকে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছেন, কায়সারকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

   

About

Popular Links

x