Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজীপুরে ৫ হত্যা: ফোরকানের মোবাইল উদ্ধার, মরদেহ খুঁজে পায়নি পুলিশ 

কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচ হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন মোড় আলোচনায়

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচ হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন মোড় আলোচনায় এসেছে। 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। 
 
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালের দিকে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দীন। তিনি সাংবাদিকদের সামনে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। 


সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘটনার পর থেকেই আমার তিনটি টিম অভিযান শুরু করে। এরপর মেহেরপুরে বাসের একজন হেলপারের কাছ থেকে আমরা তার (ফোরকান) ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করি। যে হেলপারের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে সে বাস থেকে সেতুর উপর মোবাইল পড়ে থাকতে দেখ নিয়ে নেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে হেলপার জানায়- পদ্মা সেতু থেকে মোবাইল পেয়েছে।” 

“এরপর আমাদের টিম পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ চেক করে জানতে পারে- প্রাইভেটকার থেকে কোনো এক ব্যক্তি পদ্মা সেতুতে নামছে। নামার পর তার হাত থেকে মোবাইল এবং ব্যাগটি রাখছে। নামার পর সে দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে। পরে রেলিংয়ের ওপরে উঠে সে ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেয়। ঘটনার দিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে সে পদ্মা সেতুতে ঝাঁপ দেয়। তবে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান কি-না সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা ভিডিও ফুটেজে এ পর্যন্ত পেয়েছি। মোবাইলটি যখন সেতুতে রাখে তখন আমরা সিসিটিভি ফুটেজে প্রাইভেটকার শনক্ত করি, এবং চালকের সঙ্গে কথা বলেছি।”  

তিনি আরও বলেন, “পরে, মামলার বাদী শাহাদাৎ মোল্লা, বাদীর দুই ছেলে এবং তাদের ৮ থেকে ১০ জন আত্নীয়স্বজনকে ওই ভিডিও ফুটেজ দেখায়। দেখানোর পর তাদেরকে বলা হয়- এই ব্যাক্তি ফোরকান কি-না? তারা বলেন, ‘মনে হচ্ছে, তবে শিউর না।’ পোশাক দেখেও তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে তারা ধারণা করছে- ফোরকান, কিন্তু শিউর না। এরপর ফোরকানের ভাই জব্বারকে আমরা জিজ্ঞাসা করি এবং তাদের গ্রামের স্থানীয় মেম্বারকে জিজ্ঞাসা করি। তারাও বলে আমরা ধারণা করছি কিন্তু শিউর না।” 

মোবাইলটি ফোরকানের এবং এক ব্যক্তি পদ্মা সেতু থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়েছে এটাও নিশ্চিত বলে জানান তিনি। “যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনো লাশ না পাব এবং ওই লাশের ডিএনএ টেস্ট না পাব ততক্ষণ পর্যন্ত বলতে পারব না- এই ব্যক্তি’ই ফোরকান” বলেন তিনি।  

পুলিশ সুপার জানান, অভিযান অব্যাহত আছে এবং টিম মাঠে আছে। যেভাবেই হোক ফোরকানকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে শুধু ফোরকানকেই পাচ্ছে। 

উল্লেখ, গত শনিবার (৯ মে) ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), শ্যালক রসুল (২২), ফোরকানের তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা (৮) এবং ফারিয়ার (দেড় বছর) লাশ পাওয়া যায়। নিহতদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়। 

হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান তার ছোট ভাইকে ফোন করে জানায়- তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশিরা ওই বাড়িতে গিয়ে পাঁচজনের মরদেহ দেখতে পায়।  

   

About

Popular Links

x