খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্টকে ঘিরে তামাক কোম্পানির পরোক্ষ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কনসার্টটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে তামাক কোম্পানিগুলো সরাসরি বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাইফস্টাইল ক্যাম্পেইন ও যুবসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে পরোক্ষ প্রচার চালাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ধূমপান ও ই-সিগারেট ব্যবহারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৬ মে কুয়েটে একটি কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন পোস্টে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজনের আড়ালে তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের লক্ষ্য করে নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ ভোক্তা তৈরির কৌশল বাস্তবায়ন করে থাকে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধিত) ২০২৬-এ তামাকপণ্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন এবং পৃষ্ঠপোষকতার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তামাকমুক্ত রাখার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনাও বিদ্যমান।
কুয়েট প্রশাসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট “লেটস ভাইব” কনসার্টের মাধ্যমে তামাক কোম্পানির সম্ভাব্য প্রচারণা কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায়।
কুয়েট ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী জানান, তামাক বিরোধী জোটের চিঠি কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে। ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রতিধ্বনি ক্লাবের আয়োজনে ওপেন কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। কনসার্টটির স্পন্সর “লেটস ভাইব” যেটি জাপান টোব্যাকোর স্লোগান ও ক্যাম্পেইন ট্যাগলাইন হিসেবে ব্যবহার হয়। ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন অনুযায়ী ২০২৬ আইন পরিপন্থি হওয়ায় আগামী ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ওপেন কনসার্ট অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হলো।



