Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় তিনি এসব কথা বলেন

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, “কেবল অর্থ বরাদ্দ বা প্রকল্প গ্রহণ করলেই উন্নয়ন হয় না; মানুষের জীবনমানের প্রকৃত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।“

সোমবার (১৮ মে) বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগের দিনের হিসাব টানলে হবে না। কাঁদা ছোড়াছুড়ি বা দোষারোপ করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।“ তিনি আরও বলেন, “সরকারের বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার কাজে জবাবদিহিতা থাকতে হবে এবং উন্নয়ন প্রকল্প মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।“

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে মীর হেলাল বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পিরিট ও স্পিড বজায় রেখে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যদি ১০০ মাইল বেগে এগিয়ে যান আর আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে সামগ্রিকভাবে ক্ষতি হবে। প্রতিটি সেক্টরে শক্তভাবে মনিটরিং হচ্ছে।”

তিনি কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পের যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে আইনসম্মতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকেও সমানভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।“

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু গার্ডার ব্রিজ, কালভার্ট বা খাদ্য সহায়তা দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলার মতো প্রকল্প গ্রহণ।“

সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে মোট ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জিওবি খাতে ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা খাতে ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বর্তমান অর্থবছরে এডিপিভুক্ত আটটি প্রকল্প ও তিনটি উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি অনুমোদিত হয়েছে। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ সম্প্রসারণ, রাঙ্গামাটির যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন ও ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনা, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান এবং বান্দরবানে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অনুপ কুমার চাকমা, মনিরুল ইসলাম, কংকন চাকমা, অতুল সরকার, থানজামা লুসাই, কাজল তালুকদার এবং শেখ সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

   

About

Popular Links

x