Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার বন্ধ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাতিল হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও ইভিএম ব্যবহারের বিধান। সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে থাকছে না কোনো দলীয় প্রতীক।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। আগামী জুনের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে এই নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা করছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করে আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করা হবে। কমিশনের আশা, আগামী অক্টোবর থেকেই এই নির্বাচন শুরু করা যাবে।

প্রস্তাবিত সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। বর্তমানে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই জামানতের পরিমাণ কত হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

নতুন বিধিমালায় প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। পাশাপাশি ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

সহিংসতাহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, সহিংসতা মূলত আইন-শৃঙ্খলার বিষয়। কেউ সংঘর্ষ সৃষ্টি করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি হবে। তবে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়, দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, সহযোগিতা না করলে আমরা কী করব? খেলোয়াড় যদি সারাদিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে?

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক জোট আচরণবিধি মেনে চলায় কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব কম হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

   

About

Popular Links

x