Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নজরুল কি এই বটবৃক্ষের নিচে আসলেই বাঁশি বাজাতেন

কবি পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় পাঁচ দশক আগে, তবে সেই বটবৃক্ষ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

প্রায় দুই দশক পর ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয়ভাবে উদযাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। তবে এই উৎসবমুখর আবহের মধ্যেই নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘নজরুল বটবৃক্ষ’ ও কবির দুটি স্মৃতিকেন্দ্রের চরম অবহেলা ও পাঠক-দর্শনার্থী শূন্যতার চিত্র সামনে এসেছে।

জনশ্রুতি আছে, কিশোর বয়সে কবি নজরুল ইসলাম স্কুল ফাঁকি দিয়ে এই বটগাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন। কবি পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় পাঁচ দশক আগে, তবে সেই বটবৃক্ষ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নামাপাড়া গ্রামে শুকনি বিলের পাড়ে ঐতিহাসিক এই বটগাছটির অবস্থান। এই গাছটিকে কেন্দ্র করেই ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, যাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিফলক ও এই ঐতিহাসিক বটগাছটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে পড়ে যায়। যে গাছকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি আজ সীমানা প্রাচীর থেকে ১৫-২০ গজ বাইরে অবহেলায় পড়ে আছে।

বর্তমানে গাছটির চারপাশে পাকা বেদি ও আলপনা আঁকা থাকলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ মূলত পাশ্ববর্তী নজরুল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “ঐতিহাসিক এই বটতলাকে আমরা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগ নেব। সংরক্ষণের জন্য সেখানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর করা যায় কি না, সেটাও আমাদের ভাবনায় রাখা হচ্ছে।”

গবেষকদের তথ্যমতে, ১৯১৪ সালের দিকে ভারতের আসানসোল থেকে কবি নজরুলকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন দারোগা রফিজ উল্লাহ। তাঁকে দরিরামপুর হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নামাপাড়ার বিচুতিয়া ব্যাপারীবাড়িতে জায়গির থাকেন তিনি। ২০০৮ সালে এই দুই বাড়িতে দুটি ‘কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করে নজরুল ইনস্টিটিউট।

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, জন্মবার্ষিকীর রাষ্ট্রীয় আড়ম্বরের পাশাপাশি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিকেন্দ্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে স্থায়ী ও আন্তরিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

   

About

Popular Links

x