নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। এর ফলে ঈদযাত্রায় উত্তরের পথে ১৫ কিলোমিটার ধীরগতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘুরমুখো মানুষ।
রডভর্তি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহতের পরেও ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে খোলা ট্রাক-পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে শ্রমজীবী মানুষ। এছাড়া বাসের ছাদেও মানুষকে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদেরকেও ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যেতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ হাজার ২৪৬ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ফলে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।
যাতায়াতকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণপরিবহন না পেয়ে এবং বাসের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপে করে উত্তরবঙ্গের মানুষরা বাড়িতে যাচ্ছেন। তবে বৃষ্টির কারণে এসব যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৬ মে) মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন চিত্র দেখা মিলে।
যাত্রীরা বলেন, “মহাসড়কে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু পরিবহন পাই না। কিন্তু বাড়ি তো যাওয়া লাগবে। আবার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে যাচ্ছি।”
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝড় বৃষ্টির কারণে গাড়ির জ্যাম ছিলো। সেই সঙ্গে যমুনা সেতুর উপর একাধিক গাড়ি বিকল ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে মহাসড়কে আরো ধীর গতি তৈরি হয়েছে।
গার্মেন্টস কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, “ঈদ আসলেই ভাড়া বেশি হয়ে যায়। গাজীপুর থেকে বগুড়া যাব বাসে ভাড়া চাই ১৪০০-১৫০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে ৫০০ টাকা দিয়ে বগুড়া যেতাম। ফলে খোলা ট্রাকে করে বগুড়া যাচ্ছি। ট্রাকের ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে।”
মরিয়ম বেগম নামের এক ট্রাকের যাত্রী বলেন, “বাসে আসলে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়। বাসে তেমন যাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি ভর্তি থাকায় উঠাতে চাই না। এইজন্য ট্রাকে করে সিরাজগঞ্জ চাচ্ছি। খরচও কম লাগতেছে।”
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “মহাসড়কে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত হওয়া ১৫ জন নিহত হয়। আর আহত হয় ৮ জন, তারা সবাই শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ।



