Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জামিনে মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

বুধবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় 

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। 

বুধবার (৩ জুন) রাত ১০ টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন।

তিনি বলেন, “বুধবার বিকেলে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌছায়। রাত দশটায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তাকে আমরা নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এসেছি।”

জানা গেছে, আইভীর বিরুদ্ধে মোট বারোটি মামলা রয়েছে। গত ১০ মে দশ মামলায় আইভীর জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এরপর তার মুক্তির সম্ভাবনা তৈরী হয়। অন্য দুইটি মামলায় আইভী হাইকোর্টে জামিন পান। কিন্তু এই দুইটি মামলায় জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যায়। পরে ১৭ মে এই দুইটি মামলায়ও তার জামিন বহাল রাখার আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।

তার আইনজীবী আওলাদ হোসেন জানান, বারোটি মামলার জামিন বহাল রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলো নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসে। যেদিন এটি নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসে একই দিন সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন চেয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরেকটি আবেদন করা হয়। ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এর মধ্যে ঈদ-উল-আজহার ছুটি শুরু হয়ে যাও্যায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার জামিনের কাগজ কাশিমপুর পৌঁছেছে।    

এর আগে, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মোট পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৯ নভেম্বর জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। গত ১০ মে জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল খারিজ করে আইভীর জামিন বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।

তবে প্রথম দফার ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর আইভীকে আরও পাঁচ মামলায় গত বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা। অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা মামলা।

দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

দ্বিতীয় দফার এই পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল ১০ মে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আপিল বিভাগ আইভীর জামিনে এর আগে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল (জামিন প্রশ্নে) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। ফলে দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল হয়।

২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

   

About

Popular Links

x