Tuesday, June 16, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বামীকে বাঁচাতে কিডনি দিতে চান স্ত্রী, নেই অপারেশনের টাকা

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ফাহিমা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অর্থাভাবে স্বামীকে নিজের কিডনি দিতে পারছেন না স্ত্রী ফাহিমা। স্বামীর জীবন বাঁচাতে কিডনি দানে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও কিডনি প্রতিস্থাপন অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে চিকিৎসা আটকে আছে।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় মির্জাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ফাহিমা।

ফাহিমা জানান, উপজেলার তরফপুর গ্রামের বাসিন্দা জহের আলী সিকদারের সঙ্গে ২০০০ সালে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জহের আলীর জটিল কিডনি রোগ ধরা পড়ে। এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, “গত পাঁচ মাসে চিকিৎসায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে ডায়ালাইসিস ও ওষুধ মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি প্রতিস্থাপনই আমার স্বামীর সুস্থ হওয়ার একমাত্র উপায়।

ফাহিমা বলেন, "আমি নিজের একটি কিডনি দিয়ে স্বামীকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কিন্তু অপারেশনের জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য আমাদের নেই। আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছি না।"

জানা গেছে, জহের আলী সিকদার পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি আর কাজ করতে পারছেন না। পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে যুথী এইচএসসি পাস করলেও অর্থাভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে জুই এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে ফয়সাল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বড় ছেলে ফাহাদ অটোরিকশা চালিয়ে কোনোভাবে সংসারের ব্যয় বহন করছেন।

বর্তমানে জহের আলী ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জহের আলী সিকদার ও তাদের বড় মেয়ে যুথী আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তার জন্য সরকার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।

   

About

Popular Links

x