Thursday, June 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জুলাই আন্দোলন: জাবির ২১ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ভোরে দীর্ঘ সিন্ডিকেট সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

জুলাই ছাত্র আন্দোলনে হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ভোর পাঁচটার দিকে দীর্ঘ সিন্ডিকেট সভা শেষে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেটে নয়জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে পদাবনতি ও বেতন অবনমন, দুজন শিক্ষককে সতর্কীকরণ এবং সাতজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

সাজা ও অব্যাহতি পেলেন যারা

সিন্ডিকেট সভায় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। 

সাবেক সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। 

সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। 

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দিয়ে দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। 

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করে নিম্নতর বেতনস্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। 

পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দিয়ে দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে।

অব্যাহতি পেলেন যারা


সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ। 

কর্মকর্তাদের ভেতর সাজা ও অব্যাহতি পেলেন যারা

ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে এবং দুই বছর পর পুনরায় পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হবে।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাজাও আপিলে কমলো

বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে, ১৫ জুলাই তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে এবং উপাচার্যের বাসভবনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গত বছরের ৪ আগস্ট ছাত্রলীগের ১৮৯ জন নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সাজাপ্রাপ্তদের অনেকের আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থীর শাস্তি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

 

   

About

Popular Links

x