Thursday, June 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী

 মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে চোখ হারিয়েছেন আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস(৪৫)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় এই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাথরটি শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত হানে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও তার ডান চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চোখটি অপসারণ করতে হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত শ্যামলের সঙ্গে থাকা আইনজীবী সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মানছুরুল হক মনা বলেন, “মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমরা একসাথে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ন’ বগিতে করে আসছিলাম, এরমধ্যে এডভোকেট শ্যামল দাস ৩৪ নম্বর সিটে বসা ছিল। রাত ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেশনে পৌছার আগ মুহূর্তে তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় একটি পাথর ট্রেনের জানালা ভেদ করে ট্রেনের ভেতরে থাকা শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত হানে। পরে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে আসার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আহত শ্যামলকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বুধবার সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকেরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি রক্ষা করতে পারেননি। পরবর্তীতে চোখটি অপসারণ করতে হয়।”

জেলা নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি নীহার রঞ্জন সরকার বলেন,একের পর এক ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায়, রেলযাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আতংঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর উচিত ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

এদিকে রেলওয়ে ফেসবুকভিত্তিক পেজ "দ্য ট্রেন" এর এডমিন সোহেল আহমেদ জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে রেলের পাশের জনপ্রতিনিধি মেম্বার, চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যুক্ত করে সমন্বিত ভাবে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করাসহ প্রতিরোধের ব্যাপারে রেললাইনের পাশের ইউনিয়ন ওয়ার্ডগুলোতে  এলাকাভিত্তিক কমিটি করা জরুরি। তাহলে এই ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম বলেন, “আজ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

   

About

Popular Links

x